🏠 হোম 🚌 বাস টিকিট 🛒 শপ 🎓 এডমিশন 🏞 ট্যুর
  • 🚗 গাড়ি রিজার্ভ
  • 🏨 হোটেল
  • 📲 অ্যাপ ইনস্টল করুন

    শেরপুর জেলার তথ্য ভান্ডার

    শেরপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন, বাস, হোটেল ও সকল সেবার নির্ভরযোগ্য তথ্য

    রাজিব আহমেদ সাক্ষাৎকার: জেলা ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ

    জেলা ওয়েবসাইটের ধারণা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজিব আহমেদের সাক্ষাৎকার

    বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, স্থানীয় পণ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। কিন্তু এসব বিষয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনলাইনে সহজে পাওয়া যায় কি? জেলার পণ্যগুলোকে দেশজুড়ে পরিচিত করা, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেওয়া এবং জেলা পর্যায়ে ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে জেলা ওয়েবসাইট কী ভূমিকা রাখতে পারে?

    এই ভাবনা থেকেই বাংলাদেশে জেলাভিত্তিক ওয়েবসাইট গড়ে তোলার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০১৮ সাল থেকে জেলা ওয়েবসাইটের আইডিয়া নিয়ে কাজ ও প্রচার চালানোর করেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর সাবেক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজিব আহমেদ। তাঁর পরামর্শক্রমে শেরপুর জেলার তথ্য, ঐতিহ্য, পর্যটন ও স্থানীয় পণ্য অনলাইনে তুলে ধরার উদ্যোগ থেকে Our Sherpur এর জন্ম হয়।

    আমি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, Our Sherpur-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রাজিব আহমেদের সঙ্গে জেলা ওয়েবসাইটের আইডিয়া, এর লক্ষ্য, স্থানীয় পণ্যের ব্র্যান্ডিং, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবসায়িক মডেল এবং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে জেলা ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি। সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে জেলা পর্যায়ে ডিজিটাল উদ্যোগের সম্ভাবনা, সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার নানা দিক।

    ১. জেলা ওয়েবসাইটের আইডিয়া আপনার মাথায় কীভাবে এসেছিল?

    জেলা ওয়েবসাইটের আইডিয়া আমার মাথায় এসেছে ২০১৫ সালের শুরু থেকে। তখন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ইক্যাব নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সেই সময় যেটা দেখলাম, ইক্যাবের উদ্যোক্তাদের প্রায় সবাই বিদেশি পণ্য নিয়ে কাজ করছেন—চীনের গ্যাজেট, ভারত-পাকিস্তানের পোশাক, কোরিয়ান কসমেটিক্স ইত্যাদি। অথচ বাংলাদেশের জেলা পণ্যগুলো নিয়ে তখন তেমন কোনো উদ্যোগ ছিল না। তাই তখন থেকেই চিন্তা করছিলাম, এমন একটি ওয়েবসাইট হওয়া দরকার, যেখানে একটি জেলা সম্পর্কে সব তথ্য থাকবে এবং হয়তো কিছু পণ্যও বিক্রি হবে।

    ২. ই-কমার্স বা ই-ক্যাবের কোন অভিজ্ঞতা থেকে আপনি বুঝেছিলেন যে জেলাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দরকার?

    ২০১৫ সালের শুরু থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল, বিভিন্ন জেলার পণ্য যেন বাংলাদেশে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে বা অনলাইন শপিংয়ে জনপ্রিয় হয়। কিন্তু সে সময় খুব কম জেলার পণ্য পাওয়া যেত। কারণ, জেলাভিত্তিক ই-কমার্স ওয়েবসাইট একেবারেই ছিল না। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের কথা বলছি—হাতে গোনা কয়েকটা ছিল। আর ঐসব ওয়েবসাইটে মূলত শুধু জেলাভিত্তিক পণ্য বিক্রি হতো; জেলা নিয়ে তথ্য পাওয়া যেত না।

    তখন আমার মনে হয়েছিল, জেলাভিত্তিক পণ্য বা দেশি পণ্যকে জনপ্রিয় করতে হলে এগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। আর ওই জেলাগুলো সম্পর্কেও জানতে হবে। জেলা সম্পর্কে তথ্য না থাকলে জেলাভিত্তিক পণ্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি করা অনেক কঠিন হবে। এভাবেই মনে হয়েছে, জেলা ওয়েবসাইট দরকার, যার একটা অংশ হবে জেলা পণ্য।

    ৩. শুরুতে এই আইডিয়া নিয়ে কাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং তাঁদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

    ২০১৮ সালের শুরুতে যখন ইক্যাব প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয় এবং আমি সেই দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে Digital Skills for Bangladesh গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করি, তখন মনে হচ্ছিল যে এখন এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তাই ২০১৮ সালের শুরু থেকেই এই ব্যাপারটা নিয়ে পোস্ট দেওয়া শুরু করলাম।

    দেলোয়ার ভাই—মানে শেরপুরের দেলোয়ার ভাইসহ—কয়েকজন এগিয়ে এসেছিলেন, এবং বেশ কিছু ডোমেইন ও হোস্টিং কেনা হয়েছিল। তবে সবাই সফলতার মুখ দেখেনি। তারপর আমি খুশি হয়েছিলাম যে অন্তত দশটি জেলা ওয়েবসাইট তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    রাজিব আহমেদ সাক্ষাৎকার জেলা ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ

    ৪. জেলা ওয়েবসাইটের প্রাথমিক রূপরেখা বা বিজনেস মডেলটা আপনি কীভাবে চিন্তা করেছিলেন?

    ২০১৮ সালে আসলে বিজনেস মডেল নিয়ে চিন্তা করার তেমন কিছু ছিল না। কারণ, তখনও বাংলাদেশে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অত বড় হয়নি। আরেকটা কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে এখনো বিজ্ঞাপনভিত্তিক ওয়েবসাইট খুব একটা জনপ্রিয় না। মানে, ওয়েবসাইটের রেভিনিউ মডেল যদি শুধু বিজ্ঞাপন হয়, তাহলে সেগুলো খুব একটা বেশিদূর যেতে পারে না এবং টেকে না।

    তাই বিজনেস মডেলের দিকে চিন্তা করেছিলাম যে, আমি যদি— ৬৪ জেলা না হোক—অন্তত ২০ জেলার জন্য একসঙ্গে ওয়েবসাইট তৈরি করি, তাহলে তা আলাদা একটা ছোটখাটো ইন্ডাস্ট্রি হয়ে যেতে পারে এবং তখন হয়তো রেভিনিউ মডেল বের হবে।

    ৫. এই আইডিয়া কি শুধু তথ্যভান্ডার, নাকি ই-কমার্স, নিউজ ও কমিউনিটির সমন্বয়?

    সত্যি বলতে কি, ২০১৮ সালে আমার চিন্তা ছিল যে আগে তথ্যভাণ্ডার হিসেবে জেলা ওয়েবসাইট হোক। এর কারণ হচ্ছে, ওই সময়টাতে বিভিন্ন জেলা সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যেত না। একমাত্র ঢাকা বা গুটিকয়েক জায়গা নিয়ে মোটামুটি ভালো তথ্য ছিল অনলাইনে। আমি ২০১৮ সালের শুরুর দিকে কথা বলছি। তখন মনে হচ্ছিল, আগে তথ্যভাণ্ডার হিসেবে গড়ে উঠুক এবং এরপরে অবশ্যই আমি চাইতাম প্রতিটি জেলা ওয়েবসাইটে জেলা পণ্যগুলো বিক্রি হোক।

    কারণ আমি নিজে ই-ক্যাবের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ছিলাম, তাই জেলা ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে ই-কমার্সের প্রসার হোক—সেটা আমি অনেক চাইতাম ২০১৮ সালে। আর আরেকটা কথা হচ্ছে, ২০১৮ সালে কিন্তু তখনও দেশি পণ্যের ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেনি। তাই দেশি পণ্যের ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির স্বপ্নের প্রথম ধাপ ছিল আসলে জেলা ওয়েবসাইট এবং তথ্যভাণ্ডার, কারণ তথ্যের জন্য মানুষ তো যাবেই। আজ থেকে প্রায় নয় বছর আগে এগুলোই চিন্তা করতাম।

    ৯ বছর পরে এসে এখন যেটা মনে হয়, একটা বড় ফাঁকা মাঠ হচ্ছে ই-লার্নিং বা অনলাইনে লেখাপড়া। এই দিকের সব উদ্যোগ এখন ঢাকাকেন্দ্রিক। অথচ জেলা পর্যায়ে অনেক কিছুই করা যেতে পারে। যেমন—‘আওয়ার শেরপুর’ যে অ্যাডমিশন টেস্টে বাস সার্ভিসের উদ্যোগ নিয়েছে শেরপুরের মতো জেলা থেকে, সেটা কিন্তু ঢাকার কোনো কোম্পানি করে নাই। তাই জেলার এডুকেশন বা লেখাপড়া নিয়ে অনেক কিছু করার আছে।

    তবে এক্ষেত্রে প্রতিটি জেলার শিক্ষা অফিস, ডিসি অফিস বা সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। আর তা না হলে ঢাকার সঙ্গে বৈষম্য ও দূরত্ব অনেক দ্রুতগতিতে এত বেশি বেড়ে যাবে, যা কল্পনাও করা যাচ্ছে না।

    ৬. একটা জেলা ওয়েবসাইটের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

    একটা জেলা ওয়েবসাইটের সবার আগে লক্ষ্য হওয়া দরকার জেলা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য। একটা জেলার সব গ্রাম না হোক, অন্তত ইউনিয়ন নিয়ে তথ্য থাকা দরকার; স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে তথ্য থাকা দরকার।

    জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবনী, জেলার সাহিত্য—মোট কথা, একটা জেলার সবকিছু নিয়েই তথ্য আসা উচিত। আর এটা করতে হলে আসলে সরকারি সাহায্য দরকার, সাপোর্ট দরকার। কারণ আমি যত সহজে একটা জেলা ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য বলে দিলাম, বাস্তবায়ন করতে প্রতিটা পদে পদে আর্থিক সামর্থ্য থাকা দরকার।

    ৭. আপনার মতে একটা জেলা ওয়েবসাইটে কোন কোন বিষয় থাকা একদম আবশ্যক?

    একটি জেলা ওয়েবসাইটে সবার আগে জেলা-সম্পর্কিত কিছু তথ্য, বিশেষ করে লেখাপড়া-সম্পর্কিত তথ্য থাকা দরকার। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, ট্যুরিজম, জেলা পণ্য—এসব বিষয়ে তথ্য থাকা আবশ্যক।

    তবে যেটা বললাম, এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা অনেক কঠিন কাজ এবং সময় লাগে। ঢাকার ব্যাপার চলছে—অল্প জায়গার মধ্যে অনেক কিছু রয়েছে। জেলাগুলো কিন্তু এমন না। বেশিরভাগ জেলায় অনেকটা ফাঁকা। তাই তথ্য সংগ্রহ করার জন্য অনেক বেশি কষ্ট করতে হয়।

    ৮. তথ্যের সত্যতা ও আপডেট রাখার জন্য আপনার পরামর্শ বা গাইডলাইন কী?

    তথ্যের সত্যতা এবং আপডেট রাখা খুব বড় চ্যালেঞ্জ। আপডেট রাখার থেকেও বেশি কঠিন হচ্ছে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে একেবারে ফিল্ডে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ না করলে নানারকম তথ্য চলে আসে, যেগুলোর কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা—তা বোঝা যায় না। মিথ্যা বা একদম নিখুঁত নয়—এমন তথ্য এলে সেই ওয়েবসাইটের ক্ষতি হয়, মানুষদেরও ক্ষতি হয়।

    আর এজন্য যেটা করা যেতে পারে, তা হচ্ছে ভলান্টিয়ার সংগ্রহ করা, ভলান্টিয়ার তৈরি করা—যারা নিজের জেলাকে তুলে ধরতে চায়। তবে এই কাজটা অনেক কঠিন। কারণ, বাংলাদেশে সত্যিকারের ভলান্টিয়ার মানসিকতা খুব বেশি মানুষের মধ্যে নেই।

    ৯. জেলা পর্যায়ের কোন কোন বিষয়গুলো আপনি জেলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখেছিলেন?

    আমার স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৪ জেলা-সম্পর্কিত তথ্য থাকবে। আর যে বিষয়গুলোকে আমি খুব গুরুত্ব দিতাম, তা হচ্ছে অবশ্যই প্রথমে ই-কমার্স। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলে আসলে একটা ওয়েবসাইট টিকবে না। আর ই-কমার্সও জেলা পর্যায়ে প্রসার পেলে স্বাভাবিকভাবে ওই জেলার পণ্যগুলো নিয়ে বিক্রি কতটা বাড়বে জানি না, কিন্তু প্রচার হবে প্রচুর।

    যেমন, আওয়ার শেরপুর ওয়েবসাইটের কারণে তুলশীমালা চালের যে ধরনের প্রচার হয়েছে, সেটা আওয়ার শেরপুর ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন বা আমি, রাজিব আহমেদ, দাবি করার চেয়ে Google-এ সার্চ করলে পাওয়া যায়। Facebook-এ সার্চ করলেও পাওয়া যায়। এটা ছিল সবচেয়ে প্রথম কথা—একটা জেলা ওয়েবসাইটের কারণে তুলশীমালা চালের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। কারণ, ২০১৯ সালের আগে Facebook-এ সার্চ করলে তুলশীমালা চাল-সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যেত না।

    এটা একটা উদাহরণ। সেই সঙ্গে আমি চাই, এখনো চাই—ট্যুরিজম। কারণ জেলা পর্যায়ে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ট্যুরিজমের খুব বেশি বিস্তার ঘটেনি। শেরপুর জেলার উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, গারো পাহাড় রয়েছে, আর শেরপুর খুব সুন্দর একটা জেলা। কিন্তু সেইভাবে ট্যুরিজমের প্রসার ঘটেনি।

    অবশ্যই, ট্যুরিজমের প্রসার ঘটানোর জন্য ওয়েবসাইটে কনটেন্ট যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা—এসবেরও দরকার রয়েছে। ভালো মানের হোটেলেরও দরকার রয়েছে। তবে জেলা পর্যায়ের ওয়েবসাইটগুলো এদিকে ভালো ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।

    ১০. সরকারি ওয়েবসাইট থাকার পরও জেলা ব্র্যান্ডিংয়ে একটি বেসরকারি জেলা ওয়েবসাইট কীভাবে ব্যতিক্রমী হতে পারে?

    এই প্রশ্নটা ২০১৮ সালে অনেকবার উঠেছিল যে, যেখানে প্রত্যেকটা জেলার সরকারি ওয়েবসাইট রয়েছে, তাহলে বেসরকারি সেক্টরে কেন জেলা ওয়েবসাইট করা দরকার? সরকারি যে ওয়েবসাইটগুলো রয়েছে, সেখানে খুব সীমিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু বেসরকারি জেলা ওয়েবসাইটে তথ্য অনেক বেশি হতে পারে।

    এই ব্যাপারটি আসলে আমরা কখনোই চিন্তা করিনি, এবং জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইটের থেকে বেসরকারি ওয়েবসাইট অনেক বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে। আরেকটা কথা হচ্ছে, সরকারি ওয়েবসাইট কিন্তু একটা জেলায় একটা হয়, কিন্তু একটা জেলায় দশটা বেসরকারি ওয়েবসাইট হতে পারে। আর যে ওয়েবসাইটগুলো হবে, তারা জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বেসরকারি খাতের ওয়েবসাইটগুলো সরকারি সহায়তা পায় না।

    ১১. একটি পণ্য কীভাবে জেলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠতে পারে?

    এটা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। গবেষণা হলে, আমার মনে হয়, আমি আগের কথাটাই আবার বলি। সবচেয়ে ভালো কেস স্টাডি হতে পারে আওয়ার শেরপুর এবং তুলশীমালা চাল। তুলশীমালা চাল কীভাবে আওয়ার শেরপুরের মাধ্যমে ২০১৯ সাল থেকে Facebook-এ, Google-এ, YouTube-এ এবং মিডিয়াগুলোতে প্রচার হয়েছে—অনেক পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল এবং নিউজ ওয়েবসাইটে প্রচার হয়েছে। আমার ধারণা, সংখ্যাটা কয়েকশ হবে। অন্তত একশ বা দুইশ তো হবেই।

    আর এই ব্র্যান্ড মানে কী? ব্র্যান্ড মানে হচ্ছে একটা পণ্যের পরিচিতি—যে আমি শেরপুর বললে তুলশীমালা চালকে চিনব, বা তুলশীমালা চাল বললে শেরপুরকে চিনব বা বুঝব। এটাই তো ব্র্যান্ডিং।

    এক্ষেত্রে আওয়ার শেরপুরের এই ব্যাপারটা নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। আমার মনে হয়, ২০২৭ সালে এটা নিয়ে আসলেই ভালো মানের একটা গবেষণা হওয়া উচিত কোনো একটা কনফারেন্সে বা ইউনিভার্সিটির জন্য।

    ১২. একটি জেলার ডোমেইন, নাম ও কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি কেমন হলে সেটি ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে?

    কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে আমি শুধু এইটুকুই বলতে চাই যে, চেষ্টা করা উচিত প্রতিদিন না হলে প্রতি সপ্তাহে একটা করে কনটেন্ট আপলোড করার। আর এর পরের ধাপে যেটা করা যেতে পারে—এখন তো অ্যাপ অনেক জনপ্রিয়—এমন একটা অ্যাপ তৈরি করা, যেখানে একটা নির্দিষ্ট জেলার যে কেউ ওই জেলার ছবি বা কোনো টেক্সট সেই ওয়েবসাইটের জন্য পাঠাতে পারবে। মানে, আমি বলতে চাচ্ছি, ইউজার-জেনারেটেড কনটেন্টের দিকে নজর দিতে হবে।

    এই কাজটা অনেক কঠিন। কারণ, আমি Facebook-এ কাজটা করতে গিয়ে বারবার বুঝেছি যে কাজটা মোটেও সহজ নয়। এটার জন্য লিডারশিপ দরকার, জনপ্রিয়তা দরকার—যেগুলো একটা জেলা ওয়েবসাইট ফুলটাইম চালানোর পরে উদ্যোক্তাদের পক্ষে অনেক কঠিন।

    ১৩. বড় জেলা ও ছোট জেলা নিয়ে কাজ করতে গেলে কী কী ভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে? যেমন—শেরপুর বনাম চট্টগ্রাম?

    বড় জেলার একটা বড় সুবিধা হচ্ছে যে অল্প জায়গার মধ্যে অনেক বেশি লোক। অনেক বেশি লোক মানে হচ্ছে অনেক বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অনেক বেশি ধর্মীয় অবকাঠামো, অনেক বেশি ঐতিহাসিক স্থান—এমনই অনেক কিছু। যেমন, পুরান ঢাকায় খুব অল্প জায়গার মধ্যে কয়েকশত ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে, যেগুলোর বয়স অন্তত একশ বছরের পুরোনো। এটা অন্য কোনো জেলায় চিন্তাও করা যায় না—এত অল্প জায়গার মধ্যে এত বেশি ঐতিহাসিক স্থান।

    আবার, পর্যটনের অবকাঠামো ভালো থাকে। যেমন, চট্টগ্রামে আমি কয়েকবার গিয়েছি। আজ থেকে ১২ বছর আগেই দেখেছি, চট্টগ্রামে ভালো মানের হোটেলের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ১২ বছর আগে শেরপুরের মতো জেলায় ভালো মানের হোটেল ছিল না।

    তাছাড়া, যাতায়াতের কথা যদি বলি—ঢাকা থেকে বা দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামে বাস, ট্রেন, কোনো কিছুর অভাব নেই। বিশ মিনিট পরপরই বাস ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে এসি বাস, বিলাশবহুল বাস। সেটা কিন্তু শেরপুরের জন্য অতটা পর্যাপ্ত না।

    আর চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা হয়তো চট্টগ্রামভিত্তিক কোনো উদ্যোগের জন্য স্পনসরশিপ, পৃষ্ঠপোষকতা, বিজ্ঞাপন—এগুলো দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। শেরপুরের ক্ষেত্রে সেটা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং।

    যেহেতু Our Sherpur-এর প্রথম দিন থেকে আমি অনেক কিছু কাছ থেকে দেখেছি, তাই নিজের পর্যবেক্ষণ থেকে এটা খুব সহজেই বলতে পারি—শেরপুরের জন্য এখনও জেলা ওয়েবসাইট বা জেলা ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করতে গেলে টাকা বা অর্থ একটা বড় সমস্যা।

    ই-ক্যাব সভাপতি রাজিব আহমেদ

    ১৪. একটি জেলা ওয়েবসাইট কীভাবে জেলার অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারে? ই-কমার্স, পর্যটন, কর্মসংস্থান—কোন দিকটা সবচেয়ে শক্তিশালী?

    একটা জেলা ওয়েবসাইট দীর্ঘমেয়াদে জেলার অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারে। ই-কমার্স তো অবশ্যই ভালো দিক, আর সেই সঙ্গে পর্যটন। কর্মসংস্থান সরাসরিভাবে একটা ওয়েবসাইট দিয়ে তো বেশি হবে না। কিন্তু যেটা হবে, কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সামনে আনতে পারবে। আর জেলা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে উদ্যোগ ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের ম্যাচমেকিংয়ের দিকে ভূমিকা রাখতে পারে।

    তবে এই বিষয়গুলো অনেক বেশি জটিল, আর কর্মসংস্থানের ব্যাপারটা দীর্ঘমেয়াদি। রাতারাতি কোনো কিছুই হবে না। একটা সময়ের পরে হবে। যেমন, আমি যদি আওয়ার শেরপুরকে একটি কেস স্টাডি হিসেবে দেখি, হয়তো আগামী পাঁচ বছর পরে এখানে এই রকম একটা ওয়েবসাইটে প্রতিদিন সদস্যরা নানা রকম তথ্যের জন্য আসবে, এবং এর মধ্যে থেকে কিছু কাজের মডেল হয়তো তৈরি হয়ে যাবে। তাছাড়া, প্রতিটা জেলার এখন যদি একটা করে নিজস্ব অ্যাপ জনপ্রিয় হয়, সেটাও ভবিষ্যতে ভালো অবদান রাখবে।

    ১৫. স্থানীয় উদ্যোক্তা, কৃষক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পণ্য জেলা ওয়েবসাইটে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সুবিধা-অসুবিধা কী হতে পারে?

    কৃষকরা উপকৃত হতে পারেন, কারণ তাঁদের পণ্যের প্রচার যত বেশি হবে, ততই ভালো। আমি এখানে শেরপুর জেলার তুলশীমালা চালের সঙ্গে খুলনা জেলার রানী স্যালুট ধানের একটা তুলনা করতে চাই। খুলনা জেলায় রানী স্যালুট ধান প্রায় বিলুপ্তির মুখে চলে গেছে। অথচ খুলনা একটি বিভাগীয় শহর এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শহরগুলোর একটি। কিন্তু আমরা যদি দেখি, শেরপুর জেলার তুলশীমালা চালের ব্র্যান্ডিং অনেক এগিয়ে রয়েছে, বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

    এরপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে বলি। একটি জেলা ওয়েবসাইট এবং সেই ওয়েবসাইটের অ্যাপ যত বেশি জনপ্রিয় হবে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সেখানে শুধু বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমেই নয়, বরং তাঁদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও আরও বেশি উপকৃত হবেন। যেমন, আমি দেখেছি, আওয়ার শেরপুরের যে ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে, সেখানে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের উদ্যোগের কথা বলেন, রেস্টুরেন্টের খাবারের কথা বলেন ইত্যাদি। এটাই যদি খুব বড় আকারে করা যায়, তাহলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিজেদের প্রচারের একটা জায়গা তৈরি হয়ে যাবে—সেটা জেলা ওয়েবসাইটই হোক অথবা একটা ফেসবুক গ্রুপই হোক।

    তাঁদের জন্য অসুবিধার বিষয়টি হলো, জেলাভিত্তিক উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও কৃষক—সবার জন্যই একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, তাঁরা জেলা ওয়েবসাইটের সম্ভাবনাকে আসলে বুঝতে পারেন না। আমরা যদি ঢাকার দিকে তাকাই, ঢাকায় ওয়েবসাইটের অভাব নেই, ফেসবুক গ্রুপের অভাব নেই, ইউটিউব চ্যানেলের অভাব নেই। গত দশ বছরে ঢাকা শহরে খাবার নিয়ে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে এত ভিডিওর কারণে অনেক রেস্টুরেন্ট জনপ্রিয় হয়েছে। রেস্টুরেন্টগুলোতে মানুষের ভিড় অনেক বেড়েছে। এটা যদি শেরপুরে করা যায়, শুধু খাবার নয়, পর্যটনের ক্ষেত্রেও, তাহলে স্থানীয় মানুষও উপকৃত হবেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    ১৬. বিজনেস মডেল বা টিকে থাকার মডেলটা আসলে কী হওয়া উচিত—বিজ্ঞাপন, অ্যাফিলিয়েট নাকি লোকাল শপ?

    বিজনেস মডেল এখনো জেলা পর্যায়ে হয়তো বিজ্ঞাপনটাই সবচেয়ে ভালো। তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, বিশেষ করে ই-কমার্সের জন্য হলে ভালো হতো। কিন্তু বাংলাদেশে ওই ধারণাটা এখনো খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি। আর জেলা পণ্য বিক্রি করাটাই একমাত্র নিশ্চিত ইনকাম। কারণ, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞাপন—Google AdSense হোক বা অন্য যেটাই হোক না কেন—খুব বেশি টাকা আসে না। সেই তুলনায় প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারলে ভালো হবে। তবে এটা খুব চ্যালেঞ্জিং এবং কস্টলি কাজ। টিকে থাকা খুবই বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

    ১৭. যারা এখন নতুন করে জেলা ওয়েবসাইট শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য আপনার তিনটি মূল পরামর্শ কী?

    যারা নতুন করে জেলা ওয়েবসাইট শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য আমার প্রথম পরামর্শ হচ্ছে, এ ব্যাপারে আগ্রহ থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে স্যাক্রিফাইস করতে হবে, টিকে থাকতে হবে এবং যে জেলা নিয়ে আপনি কাজ করতে চান, সেই জেলার এক মাথা থেকে আরেক মাথা না হোক, অন্তত সেই জেলা শহরের সব জায়গায় আপনার পদচারণা থাকতে হবে। নিয়মিত অ্যাকটিভ হতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

    দ্বিতীয় দিকটি হচ্ছে, একটা ওয়েবসাইট বানানো এবং তার মেইনটেন্যান্স করার জন্য কিছু টেকনিক্যাল নলেজ থাকতে হবে। কারণ, জেলা ওয়েবসাইটে কখনো সমস্যা দেখা দিলে, একদিনেই হয়তো এক হাজার লোক ফিরে যাবে। আর একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার যদি মোটামুটি টেকনিক্যাল নলেজ না থাকে, তাহলে আপনি অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাবেন, এবং এই ব্যাপারটি অনেক ব্যয়বহুল হবে।

    তৃতীয় এবং শেষ পরামর্শ হচ্ছে, তরুণ বয়স থেকে শুরু করতে পারলে ভালো। কারণ, আপনার বয়স যদি বিশ থেকে পঁচিশের মধ্যে হয়, তাহলে পরবর্তী পাঁচ বছর স্যাক্রিফাইস করা, কষ্ট করা, লেগে থাকা—এসব করতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স যদি ত্রিশের ওপরে হয়, তাহলে জেলা ওয়েবসাইট নিয়ে এতটা স্ট্রাগল করা প্রায় অসম্ভব হবে বলে আমার মনে হয়।

    ১৮. এই সেক্টরে টিকে থাকতে হলে কী কী দক্ষতা থাকা জরুরি—লেখালেখি, এসইও, ফটোগ্রাফি নাকি কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট?

    লেখালেখির দিকে আগ্রহ থাকতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ, এটা হলে একই পরিমাণ কনটেন্ট দিয়ে আরও বেশি ভিজিটর আসবে। ফটোগ্রাফি নিজে না পারলেও কোনো সমস্যা নেই। এখন এই যুগে স্মার্টফোন সবার হাতেই রয়েছে। কমিউনিটি ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারটা খুব জরুরি। তবে আমার যেটা মনে হয়, সবচেয়ে বেশি স্কিল থাকতে হবে ইউজার-জেনারেটেড কনটেন্ট তৈরি করার দিকে। এটা খুব কঠিন, আমি জানি। কিন্তু এটা যদি করা যায়, তাহলে একটা জেলা ওয়েবসাইটে অনেক বেশি লোক জড়িত হবে এবং তারা এটাকে নিজেদের বলে মনে করা শুরু করবে। আর প্রত্যেকটা জেলা ওয়েবসাইটের একটা করে ভালো ফেসবুক গ্রুপ থাকলে সেটা ভালো হয়।

    ১৯. AI-এর যুগে জেলা ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ আপনি কীভাবে দেখেন?

    আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) যুগে এসে জেলা ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে, আগে হয়তো Google Search করে মানুষ যে পরিমাণ তথ্য পেত, এখন ChatGPT-র মাধ্যমে অনেক দ্রুতগতিতে অনেক বেশি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর ChatGPT-ও নিজে তথ্য বানায় না। শেরপুরের মতো জেলাগুলোর তথ্য এমনিতেও খুব বেশি নেই যে ChatGPT দিয়ে আরেকটা ওয়েবসাইট তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে যাবে। তাই অথেনটিক জেলা ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার কাছে মনে হয় না কোনো সমস্যা হবে।

    ২০. জেলা ওয়েবসাইট নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ বা স্বপ্ন আছে, যা অন্যদের কাজে আসবে?

    জেলা ওয়েবসাইট নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছি। আমার এখনো একটাই স্বপ্ন—৬৪ জেলা না হোক, অন্তত তিরিশ-চল্লিশটা জেলা ওয়েবসাইটের উদ্যোক্তা যদি একসঙ্গে হতে পারেন এবং তাঁরা তাঁদের ওয়েবসাইটে অন্যান্য জেলা ওয়েবসাইটের লিংক দিতে পারেন, তাহলে এটা একটা আলাদা ছোটখাটো ইন্ডাস্ট্রি হওয়া সম্ভব।

    আর জেলা ওয়েবসাইটের যাঁরা আছেন, তাঁরা যদি একসঙ্গে হয়ে একটা ফোরাম বা কিছু করতে পারেন, তাহলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা, দেনদরবার করা অনেক সহজ হবে। এটা এমন একটা ইন্ডাস্ট্রি—যদিও এখনো ইন্ডাস্ট্রি বলার মতো অবস্থা হয়নি। কিন্তু তারপরও আমি বলছি, এটা এমন একটা ইন্ডাস্ট্রি, যেটা বাংলাদেশের জন্য দরকার।

    এখনো বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, তা পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক। আপনি যদি জিডিপির আকার দেখেন, পুরো বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জিডিপি হচ্ছে ঢাকা এবং আশপাশের দু-একটা জেলা মিলে। মানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর—এই তিন জেলা মিলে। আর বাকি ৬০ জেলায় গড়ে এক শতাংশ জিডিপিও নেই। ঢাকা পরে চট্টগ্রাম। আর যেটা বললাম, বৃহত্তর ঢাকা বলতে আমরা যেটাকে বুঝি, সেটাই বড়।

    কিন্তু অনেক জেলায় সম্পদের বা অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। মানুষের মাথাপিছু আয় ভালো নয়। এটাকে রক্ষা করতে হলে জেলা নিয়ে যেকোনো উদ্যোগকে আমাদের সাপোর্ট করতে হবে, এবং জেলা নিয়ে সব তথ্যের জায়গা হচ্ছে জেলা ওয়েবসাইট।

    উপসংহার

    রাজিব আহমেদের বক্তব্যে জেলা ওয়েবসাইটকে তথ্যভান্ডার হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় অর্থনীতি, পণ্যের পরিচিতি, পর্যটন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরির একটি ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে দেখার কথা উঠে এসেছে। তাঁর আলোচনায় বারবার এসেছে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব।

    Our Sherpur-এর অভিজ্ঞতায়ও জেলার পণ্য, পর্যটন ও স্থানীয় তথ্য অনলাইনে তুলে ধরার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তুলশীমালা চালের পরিচিতি বাড়ানো থেকে শুরু করে শেরপুরের বিভিন্ন তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজের মধ্য দিয়ে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল উদ্যোগের সম্ভাবনা দেখেছি। তবে একটি জেলা ওয়েবসাইটকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করতে নিয়মিত তথ্য আপডেট, নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এবং টেকসই আয়ের মডেল প্রয়োজন।

    জেলা ওয়েবসাইট নিয়ে রাজিব আহমেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন জেলার উদ্যোগগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক লিংক বিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব পরিচিতি, সম্ভাবনা ও মানুষের গল্প অনলাইনে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগগুলো নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

    মতামত দিন

    1 thought on “রাজিব আহমেদ সাক্ষাৎকার: জেলা ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ”

    1. সাবরিনা আক্তার

      ফেসবুকে ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যখন দেখি আমার জেলার তুলশীমালা চাল বুস্ট করে করে বিক্রি করতেছে তখন খুবই ভালো লাগে। আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা শেরপুর ও তুলশীমালা চাল সবার সামনে তোলে ধরার জন্য।