শেরপুর শহরে থেকে আপনি একটা নতুন ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভি কিনতে চান। স্থানীয় দোকানে মডেল কম, দামও একেক দোকানে একেক রকম। তখন অনলাইনই সহজ রাস্তা মনে হয়। কিন্তু জেলা শহরে বসে অনলাইনে দামি ইলেকট্রনিক্স কেনার আগে কয়েকটা জিনিস মাথায় না রাখলে পরে ঝামেলায় পড়তে হয়। নিচে সেই জরুরি বিষয়গুলোই সহজ ভাষায় বলছি।
মূল কথাটা শুরুতেই বলে রাখি। অনলাইনে ইলেকট্রনিক্স কেনার সময় সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে চারটা জায়গায়ঃ দাম যাচাই, বিক্রেতা বিশ্বস্ত কিনা, ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসিং, আর ডেলিভারি। বাকি সব এর পরে।
দাম আগে যাচাই করে নিন
অনেকে প্রথম যে সাইটে পছন্দের পণ্য পান, সেখান থেকেই কিনে ফেলেন। এটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। একই ব্র্যান্ডের একই মডেল বিভিন্ন বিক্রেতার কাছে ভিন্ন দামে থাকতে পারে, আর এই পার্থক্য কখনো কখনো কয়েক হাজার টাকা হয়ে যায়।
এই জায়গায় সময় বাঁচানোর ভালো উপায় হলো একই পণ্যের একাধিক বিক্রেতার দাম তুলনা করা যায় এমন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করা। তাহলে আলাদা করে দশটা সাইট ঘোরার দরকার নেই, এক জায়গাতেই কম দামের অপশনটা বেছে নেওয়া যায়। শেরপুরের মতো শহরে যেখানে সরাসরি দোকানে দোকানে ঘুরে দাম মেলানো কষ্টের, সেখানে এই সুবিধা কাজে দেয়।
বিক্রেতা বিশ্বস্ত কিনা দেখে নিন
অনলাইনে ঠকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো অচেনা বিক্রেতা। কেনার আগে বিক্রেতার প্রোফাইল, আগের ক্রেতাদের রিভিউ আর যোগাযোগের নম্বরটা একবার দেখে নিন।
সম্ভব হলে অর্ডার করার আগে বিক্রেতাকে ফোন দিন। যে বিক্রেতা ফোন ধরে না বা প্রোডাক্ট নিয়ে ঠিকমতো তথ্য দিতে পারে না, তার কাছ থেকে দামি জিনিস না কেনাই ভালো। একটু সময় নিয়ে যাচাই করলে বড় ধরনের ভুল থেকে বাঁচা যায়।
ওয়ারেন্টি আর সার্ভিসিং সবচেয়ে জরুরি
জেলা শহরে থাকলে এই পয়েন্টটা আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় থাকলে সার্ভিস সেন্টার কাছেই, কিন্তু শেরপুর থেকে অনেক ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টারে যেতে হলে ময়মনসিংহ বা ঢাকা যেতে হয়।
তাই কেনার আগে জেনে নিন পণ্যটার ওয়ারেন্টি অফিসিয়াল কিনা, আর সমস্যা হলে সার্ভিসিং কীভাবে হবে। কিছু বিক্রেতা কুরিয়ারের মাধ্যমে সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা রাখে, যেটা মফস্বলের ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক। ওয়ারেন্টি কার্ড আর কেনার রসিদটা যত্ন করে রাখুন, ক্লেইমের সময় এগুলো লাগবে।
ডেলিভারি ও পেমেন্ট নিয়ে আগে পরিষ্কার হয়ে নিন
ঢাকার বাইরে ডেলিভারিতে সাধারণত একটু বেশি সময় লাগে। অর্ডার করার আগে জিজ্ঞেস করে নিন শেরপুরে ডেলিভারি হবে কিনা, কত দিন লাগবে, আর ডেলিভারি চার্জ কত।
পেমেন্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ হলো ক্যাশ অন ডেলিভারি, যেখানে পণ্য হাতে পাওয়ার পর টাকা দেওয়া যায়। দামি জিনিসের ক্ষেত্রে অগ্রিম পুরো টাকা বিকাশ বা নগদে পাঠানোর আগে দুবার ভাবুন, বিশেষ করে বিক্রেতা যদি অচেনা হয়। পণ্য বুঝে নেওয়ার সময় প্যাকেট খুলে চালু করে দেখে নেওয়ার সুযোগ থাকলে সেটাও কাজে লাগান।
নতুন নাকি ব্যবহৃত, বাজেট বুঝে সিদ্ধান্ত নিন
সব ইলেকট্রনিক্স নতুন কেনার দরকার নেই। ল্যাপটপ বা কিছু গ্যাজেট ভালো কন্ডিশনের ব্যবহৃত অবস্থাতেও কেনা যায়, এতে বাজেটের মধ্যে ভালো স্পেসিফিকেশন পাওয়া যায়। তবে ব্যবহৃত পণ্য কেনার সময় কন্ডিশন, কত দিন ব্যবহার হয়েছে আর ওয়ারেন্টি বাকি আছে কিনা ভালো করে যাচাই করুন।
এটা অবশ্য সবার জন্য নয়। যাদের নিশ্চিন্ত সার্ভিস দরকার তাদের জন্য নতুন পণ্যই ভালো। কিন্তু বাজেট টাইট হলে যাচাই করে ব্যবহৃত পণ্য একটা বাস্তবসম্মত অপশন।
সংক্ষেপে করণীয়
অনলাইনে কেনার আগে দাম মিলিয়ে নিন, বিক্রেতা যাচাই করুন, ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসিং নিশ্চিত করুন, আর ক্যাশ অন ডেলিভারিকে প্রাধান্য দিন। এই কয়েকটা অভ্যাস থাকলে শেরপুরে বসেও নিশ্চিন্তে অনলাইনে ইলেকট্রনিক্স কেনা যায়।
শেষ কথা হলো, তাড়াহুড়া না করে একটু যাচাই করে কিনুন। দাম মিলিয়ে নেওয়া আর বিক্রেতা যাচাই করার অভ্যাসটাই আপনাকে অনলাইন কেনাকাটায় নিরাপদ রাখবে।
