একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে নালিতাবাড়ীর গণপরিসর, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং ‘সংলাপ’ পত্রিকার জন্মের গল্প লিখেছেন, রিয়াদ আল ফেরদৌস
সময়টা তখন একবিংশ শতাব্দীর সবে শুরু। নতুন শতকে পা রাখলো নালিতাবাড়ীর বর্ধিষ্ণু গণপরিসর। কেমন ছিলো সেই ভোগাই পালিত পাহাড়ি জনপদের মফস্বলি যাপন চিত্র? চলুন না একবার ডিঙি নাওয়ে ভেসে ভোগাই জলের জবানবন্দি শুনে আসি। সময়পাঠের সোনালী সময়ের পুনঃপাঠ করি কিছু দলিল-দস্তাবে ঘেঁটে।

বিগত শতকে আট ও নয়ের দশকে নালিতাবাড়ীতে শিল্প সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের এক উর্বর ভূমি গড়ে উঠেছিল। হান্টার্স ইলেভেন, রত্ন সংঘ, নবরূপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী হয়ে সাংস্কৃতিক শক্তির রূপান্তরিত রূপ গিয়ে উপস্থিত হয় গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগারের উঠোনে।
গ্রন্থাগার কেন্দ্রিক মঞ্চ নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি বিভিন্ন কর্মশালা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসে স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং তারামণি খেলাঘর আসর) এর সাথে সমন্বিত আয়োজন বাস্তবায়ন করায় গ্রন্থাগারের একটি প্রতিফলন নালিতাবাড়ীর গণপরিসরে প্রভাব ফেলেছিল সেসময়। টাউন নালিতাবাড়ীর জনসমাজে এর আওয়াজ পাওয়া যেতো কান পাতলেই। একটি সমাজ বিকাশ কেন্দ্র হিসেবে গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
নালিতাবাড়ীর প্রবীণ প্রাগ্রসর সমাজ চিন্তক থেকে শিশু পর্যন্ত উপযোগী সৃজনশীল কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হতো গ্রন্থাগার থেকে। বিতর্ক, পাঠ পর্যালোচনা, ভাঁজপত্র ও ছোটকাগজ প্রকাশ করা পাঠাগারের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হয়ে উঠেছিলো। দেয়াল পত্রিকা, জাতীয় দিবস, বৈশাখ উপলক্ষে ভাঁজপত্র ও লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করা এবং নিয়মিত নাটকের মহড়ায় চঞ্চল তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য ছিলো। খেলার মাঠও তখন সরগরম। আড়াই আনী বাজারে হিরন্ময়ী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ এবং তারাগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা ও চর্যা হত যথাক্রমে অগ্রদূত সংঘ এবং নবরূপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর প্রয়ত্নে।
একটা সময় কথায় কথায় কথা উঠলো একটি সাহিত্য কাগজ চাই। কিন্তু কেনো, কিভাবে, কার প্রয়ত্নে! শুরু হলো আলাপ আলোচনা ও পর্যালোচনা। গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগারের বৈঠকখানায় দফায় দফায় মিলিত হলেন নালিতাবাড়ীর সুধীজন, শিল্প সংস্কৃতির মানুষজন। এক পর্যায়ে সাব্যস্ত হলো মুস্তাফিজুর রহমান মুকুলের প্রয়ত্নে বের হবে মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সংলাপ। সাথে থাকবে গ্রন্থাগার পরিবারের সকলের যৌথ প্রয়াস। শুরু হল লেখা সংগ্রহ, সম্পাদনা পাশাপাশি আর্থিক যোগানের জন্য বিজ্ঞাপন সংগ্রহের কাজ।
গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগার, টিআইবি ও নালিতাবাড়ী পৌরসভার যৌথ সমন্বয়ে শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে বৈশাখী মেলার পসরা বসেছিলো সেবার। ১৪০৯ বঙ্গাব্দের মেলাকে কেন্দ্র করে মঞ্চ নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাঙালি ভোজের আয়োজন ছিলো পাশাপাশি সমাজের সর্বোস্তরের অংশগ্রহণ। প্রকাশিত হয়েছে বহু আকাঙ্ক্ষিত সংলাপ সাহিত্য পত্রিকা; ১ম বর্ষ প্রথম সংখ্যা ১লা বৈশাখ ১৪০৯ বঙ্গাব্দ; ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০০২ ইং সনে।
এসো হে বৈশাখ শিরোনামে; রাধা বিনোদ দে লিখেছেন সূচনা প্রবন্ধ। তিনি এই তল্লাটের একজন ভাষা ও সাহিত্যের সুবিদিত শিক্ষক। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করেছেন হিরন্ময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সংস্কৃতির রুচি ও মূল্যবোধ মানুষকে দিয়েছে নতুন নির্দেশনা এবং রবীন্দ্র নজরুল সাহিত্যে শাশ্বত আবেদন রয়েছে বৈশাখের আমেজে। ব্যর্থতা অতিক্রম করে অতৃপ্তি ভুলে আমরা যেন বারবার হাত পাতি নববর্ষের কাছে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাধা বিনোদ দে।
নালিতাবাড়ীর সংস্কৃতির একাল সেকাল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন যোগেন রায়। একাধারে তিনি শিক্ষক এবং শক্তিমান একজন নাট্যাভিনেতা। নালিতাবাড়ীর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল এবং শক্তিমান সংস্কৃতিজনদের বিস্মৃত শত আলাপ তুলেছেন সীমিত পরিসরে। কাগজে তিনি উল্লেখ করেছেন নালিতাবাড়ীর হৃত সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি যৌথ প্রয়াস। তার লেখাতেই জানলাম গোজাকুড়া গ্রামের কবিয়াল যোগেশ চন্দ্র শীল গাইতেন ও লিখতেন উড়িগান। যোগেশ শীলের গানের তালে নৌকা বাইচের গান ছিলো অমলিন আঞ্চলিক ঐতিহ্য। শেহরাতলীর কুস্তিগির আজগর মাল, হালখাতায় হাসমত বয়াতি, মকবুল বয়াতি-বাউলদের কিসসা গানের পালাসহ নাট্য অঙ্গনের নালিতাবাড়ীর প্রিয়মুখ প্রয়াত উৎপলাক্ষ পাল, জানকী ঠাকুর, দ্বীগেন ডাক্তার, নিবারন ভৌমিক প্রমুখের কথা আলোচনায় উঠে এসেছে।
নববর্ষ উপলক্ষে সর্বজনের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষাগুরু নগেন স্যারের বাণী এবং সেই সময়ের স্থানীয় সাংসদ ও হুইপ আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরীর শুভেচ্ছা বাণী স্থান পেয়েছে কাগজের প্রথম পাতায়। এটি একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বাতাবরণের মুক্ত এবং অনুকূল হাওয়ার পরিচয় বটে।
বৈশাখের প্রথম পরিচয়ের পুরোভাগে আছে বৈশাখী মেলা। মেলার বারোয়ারী চরিত্রই এর বিশিষ্টতা। এমনই এক বারোয়ারী মেলার গল্প আছে এই সংখ্যায়। চরক পূজার মেলা নিয়ে আবদুর রহমান তালুকদার শৈশব স্মৃতিচারণে লিখেছেন–
সুতানাল দীঘির পাড় থেকে কাঁকরকান্দি গ্রামের জাহিদ মাস্টারদের বাড়ীর পেছন পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যেত চরক পূজার মেলায়। এই বিশাল জনসমুদ্রের মূল আকর্ষণ ছিল একটি ‘চরকগাছ’। প্রায় ত্রিশ ফুট লম্বা একটি শক্ত কৃত্রিম গাছের উপরে কয়েকটি বাঁশের আঁটি একত্রিত করে বাঁধা একটি রেক। চরক বাঁশের মাঝামাঝি এক অংশে ঝুলানো থাকতো একটি মাটির হাঁড়ি। অন্য অংশে থাকতো সদ্য মৃত একটি নারীমুণ্ড-যা থেকে টপ টপ করে রক্তরস এখনো ঝরছে। মাথার লম্বা চুলের সাথে খুব শক্ত করে চরকের বাঁশের সাথে বেঁধে দেয়া হত যা সকলের দৃষ্টিতে একবার না একবার হলেও গোচর হত। বাঁশের দুই প্রান্তে দুটি রশি ঝুলত আর সেই রশিতে নিজের মত করে পেঁচিয়ে দু’প্রান্তে দুজন জোয়ান ধর্মীয় ধ্বনি উচ্চারণ করে চক্কর খেত……
কুস্তি, হা-ডু-ডু, মোরগ ও যাঁড়ের লড়াই ছিলো মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাতাসা, বুট- বড়া, জিলাপি, নাড়ু, টেপা পুতুল, মাটির পালকি, কলসি, হাতি, কুলুপ বাঁশি, আর বাঁশি ইত্যাদি সামগ্রী এই চরক পূজার মেলায় পসরা সাজিয়ে বসত।” এসব স্মৃতিকথা একটি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যাপন এবং বহুমত ও পথের সহাবস্থানের জানান দেয়।
নববর্ষ বাংলার ঐতিহ্যের এক মিলনমেলা শীর্ষক নিবন্ধ লিখেছেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এম এ হাকাম হীরা। তিনি বৈশাখের সাংস্কৃতিক শক্তিকে বাঙালির স্বীয় সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে ভেবেছেন।
বাংলা সনের জন্ম থেকে আজ – লিখেছেন শাহাদাত হোসেন খোকন। ফাঁস ও এখনও ক্রীতদাস নাটক, স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এর খবর বৈশাখী মেলা ও কাগজ ঝড় ও উত্তাপ এর খবর শেষ পাতায় ছেপেছে সংলাপ।
পাশাপাশি “সংলাপ কি পারবে?” শিরোনামে কিছু সমাজ সচেতন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রেখেছিলেন মোহাম্মদ রজব আলী। উল্লেখ করেছেন নালিতাবাড়ীতে প্রতিধ্বনি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী নামের একটি সামাজিক সংগঠনের প্রয়ত্নে নাটক, আলোচনা ও স্মরণ সভা আয়োজন হত। কিছু সময়ের পরিক্রমায় সংগঠন হারিয়ে যায় নানান প্রতিবন্ধকতায়; বৈরী আর্থসামাজিক কারণে। তাই প্রশ্ন জেগেছিলো — সংলাপ কি পারবে?
বৈশাখ সংখ্যায় কবিতা লিখেছিলেন–
মোশতাক হাবীব, শফিকুল আলম, প্রদীপ কুমার দেবনাথ, আল আমীন, রুকনুজ্জামান অঞ্জন, কোহিনূর রুমা, মাহবুবা, মান্নান সুমী, ফাতেমা সরকার, আবদুল মান্নান সোহেল, আমিনুল ইসলাম, জোবায়দা হাবীব, মোস্তফা কামাল প্রধানীয়া, এ কে সামছুদ্দিন চঞ্চল।
সংলাপের সংখ্যাগুলো যুক্ত থাকছে এই নিবন্ধের ফাঁকে ফাঁকে। সকল প্রবন্ধ/ গদ্য/ কবিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ সীমিত। তাই সংক্ষেপে সূচিপত্র উপস্থাপন করে যাই।
সংলাপ গ্যালারী













৩য় সংখ্যা ১৭ জুন ২০০২ ৩ আষাঢ় ১৪০৯ বঙ্গাব্দ
প্রবন্ধ লিখেছেন –বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্র প্রভাব / আ র ম বাকী বিল্লাহ।
কবিকে যেমন দেখেছি / রাধা বিনোদ দে।
ফুটবল ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা / আব্দুর রহমান তালুকদার।
কবিতার জন্ম / রফিকুল ইসলাম রাজীব।
সংলাপ কাগজকে সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ ছিলো শিশুদের মূলধারার সাহিত্যের সাথে যুক্ত করা। একটি পাতার অংশবিশেষ বরাদ্দ রাখা হতো শিশুদের জন্য। নাম কিচিরমিচির। কিচিরমিচির কবিতা পাতায় লিখেছিলেন —
আনিসুর রহমান, নিবিড়, ফারিহা, রাশেদ মোশারফ আলম।
সংলাপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সমাজের অগ্রসর নারীদের যুক্ত করা; যেন একটি জনগোষ্ঠীর অর্ধেক অংশ, পিছিয়ে পড়া অংশ সক্রিয় এবং উৎসাহিত বোধ করে। নারী কবিরা নিয়মিত লিখতেন কবিতা গল্প প্রবন্ধ; পাশাপাশি অংশগ্রহণ করতেন পাঠচক্র পর্যালোচনায়।
কবিতাগুচ্ছ পাতায় বর্ষা নিয়ে মৌলিক কবিতা লিখেছেন :
ফাতেমা সরকার, ফাতেমা খাতুন, মো আজিজুর রহমান, সরকার রোকসানা, মোকরেজ হেপি, আমিনুল ইসলাম, মাও: মো: আক্কাছ আলী, তোফায়েল আহমেদ, শাহাদাত হোসেন খোকন, মালা রাণী পাল।
বর্ষা ও ভালোবাসা পাতায় কবিতা লিখেছেন যথাক্রমে :
মঞ্জু রহমান, সুরঞ্জিত বাড়ই, সীমন রায়হান, বদরুন নাহার বিথী, রুকনুজ্জামান অঞ্জন, কোহিনূর রুমা, মান্নান সোহেল, লতিফা আক্তার স্নিগ্ধা, রোকসানা রজব, সোহাগ খন্দকার, কণা পারভীন, তিন্নি।
৪র্থ সংখ্যা ৭ ভাদ্র ১৪০৯ ২২ আগস্ট ২০০২
সূচি:
২২ শে শ্রাবণ রবীন্দ্র মৃত্যুচিন্তা / রাধা বিনোদ দে,
নালিতাবাড়ীতে সাংস্কৃতিক শূন্যতা / মোস্তফা কামাল,
ভোগাই ও নালিতাবাড়ী / আল মাসুদ নয়ন,
তরুণ সমাজ আজ অধ:পতনের দিকে / কামরুজ্জামান কামু,
শেরপুরের কোচ সম্প্রদায়/ এম এ হাকাম হীরা,
এক শ্রাবণের বৃষ্টি / ইলা আহাম্মেদ,
যতীন সরকারের মুখোমুখী : রুকনুজ্জামান অঞ্জন ও কোহিনূর রুমা।
যতীন সরকারের সাক্ষাৎকারটি সংলাপ পত্রিকাকে প্রান্ত থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি সহজ যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়েছিলো। যতীন সরকারের সাহিত্যভাবনা ও সংস্কৃতির নানান দিক নিয়ে বিস্তর আলাপ করেছিলেন তিনি। আগামীদিনের যতীন সরকার গবেষণার একটি মূল্যবান উপাদান এই সাক্ষাৎকার।
কবিতা : মুনীরুজ্জামান, জাকিয়া সুলতানা, রোজীনা নাজনীন, মঞ্জু রহমান, শাহানা সুলতানা, এস এম আতিকুল ইসলাম, মো আওয়াল হোসেন, আবু দাউদ, সুমাইয়া আক্তার নিশি, মো জাহাঙ্গীর আলম, নাজমুন নাহার রুমা, আসিফ আনজুম, স্বাক্ষর।
সংলাপ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি। পত্রিকাটির সফলতা ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করার সময় এসেছে। সংলাপ শুধুমাত্র একটি সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে বিবেচনা করলে ভুল হবে। এটি মোটাদাগে নালিতাবাড়ীতে তৈরি করেছিলো একটি গণপরিসর। এখানে যুক্ত ছিলেন ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা শিশু ও কিশোরদের বিরাট একটি অংশ। নতুন ভাবনা, ইতিহাসকে জানার সুযোগ এবং প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছিলো সংলাপের উঠোনে। সেই সময়ে গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগারের প্রাঙ্গণ নালিতাবাড়ীর বহুরৈখিক সাংস্কৃতিক (নাটক/সঙ্গীত/সাহিত্য) কায়কারবারের উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছিলো।
প্রশ্ন হতে পারে সংলাপ কি দিয়েছে এই সমাজে? উত্তর একদম নিরাশার নয়। সংলাপের সাথে যুক্ত অনেকেই আজ কাজ করছেন প্রথম শ্রেণির জাতীয় দৈনিক কাগজে। কেউ প্রতিষ্ঠিত শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী। সংলাপ একটি সমৃদ্ধ সময়ের নাম। আজকের তরুণ প্রজন্ম জানে না সেই সময়ের ঘ্রাণ এবং পরিসরের সজীবতা। দুই যুগের ধুলোমলিন স্মৃতিপটে সংলাপকে কোন সমালোচনা ও পর্যালোচনায় দেখা যায়নি। তবে শোনা যায় একাধিকবার সংলাপ পুনরায় যাত্রা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলো কিন্তু স্থানিক বাস্তবতায় সম্ভব হয়নি। সেটিও দোষের কিছু নয়। সংলাপের শক্তি রূপান্তরিত রূপে কোথাও না কোথাও আলো কুড়াচ্ছে, আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে নালিতাবাড়ীর প্রান্ত থেকে সর্বত্র। আজ দীর্ঘ দুই যুগ পেরিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই সংলাপকে ; সংলাপের সম্পাদনা পর্ষদকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
সংলাপ সম্পাদনা পর্ষদ
উপদেষ্টা সম্পাদক
মোশতাক হাবীব
রাধা বিনোদ দে
এম এ হাকাম হীরা
সম্পাদক
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল
নির্বাহী সম্পাদক
যোগেন রায়
সহযোগী সম্পাদক
রুকনুজ্জামান অঞ্জন
আব্দুল মান্নান সোহেল
জিল্লুর রহমান
কামরুজ্জামান কামু
মোহাম্মদ রজব আলী।
