আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা, মোঃ রফিকুল ইসলাম

0
344
রফিকুল ইসলাম

মোঃ রফিকুল ইসলাম : আমি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছি। মুক্তিযুদ্ধই বাঙালির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তবে এ যুদ্ধ হঠাৎ করে কারো আহ্বানে শুরু হয় নাই। এর জন্য আমাদের দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এ সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে আমরা যে রাষ্ট্রটি পেয়েছিলাম তার নাম ছিল পাকিস্তান। আমরা পূর্ব পাকিস্তানের আদিবাসী ছিলাম। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকার পরও আমাদের কখনো ক্ষমতায় বসতে দেয়া হয় নাই।
শুধু ক্ষমতার বাইরে রেখে তারা আমাদের ভাষার অধিকারও কেড়ে নিতে চেয়েছিল। বীর বাঙালি ১৯৫২ সালে ভাষার দাবীতে রাজপথে রক্ত দিয়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৫২র ভাষা আন্দোলন আমাদের সাহসী করে তুলেছে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েই বুঝতে পারলেন সহজে স্বৈরাচার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কখনো আমাদের অধিকার দেবে না। তাই তিনি ১৯৬৬ সালে ছয়দফা দাবি পেশ করলেন। ছয়দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।
তখন স্বৈরাচার জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলানর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিলেন। বঙ্গবন্ধুসহ মোট বত্রিশ জনকে আসামি করে এ মামলা ইতিহাসে “আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা” নামে পরিচিত। আটাশ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। সাড়ে সাত কোটি বাঙালি এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। শেষ পর্যন্ত এ প্রতিবাদ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। স্বৈরাচার আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধসহ সকলে মুক্তি দিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এবার ক্ষমতায় আসে আর এক স্বৈরাচার জেনারেল ইয়াহিয়া। তিনি এসেই সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

ইয়াহিয়া এবার আর এক ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেন। তিনি জুলফিকার আলি ভুট্টুর পরামর্শে অধিবেশন স্থগিত করেন। এর প্রতিবাদে সমগ্র পূর্ব বাংলা বিক্ষোভে ফেটে পরে। সমগ্র পূর্ব বাংলা অচল করে দেয়। বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে ঘোষণা দেন, “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।” সকল বাঙালিকে মুক্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের পঁচিশ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আর তখন বর্বর হানাদার বাহিনী বাঙালির উপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে। এক কোটি বাঙালি দেশ ছাড়া হয়ে পার্শ্ববর্তী ভারতে আশ্রয় নেয়। শুরু হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। লাখো বাঙালি অস্ত্র হাতে নিয়ে হানাদার বাহিনীর মোকাবেলা করতে থাকে বীরত্বের সাথে। বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়ার বাহিনী গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মোতাবেক বীর বাঙালি দীর্ঘ নয়মাস হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরত্বের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। অবশেষে ত্রিশ লক্ষ লোকের রক্তের বিনিময়ে, তিন লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা, পেয়েছি মহান স্বাধীনতা। পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে একটি দেশ। যার নাম বাংলাদেশ। পৃথিবীর বুকে আমরা গর্ব করে বুক ফুলিয়ে বলতে পারি বাঙালি বীরের জাতি। পরাধীনতার শৃঙ্খলে কেউ এ বীরের জাতিকে বেঁধে রাখতে পারবে না।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেছে। নানা ঘাত প্রতিঘাতে এগিয়ে চলছে আমাদের এ সুন্দর বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে এদেশ অচিরেই উন্নত বিশ্বের কাতারে জায়গা করে নিবে ইনশাআল্লাহ। তবে আমাদের সজাগ থাকতে হবে পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী দল বঙ্গবন্ধুর “আওয়ামী লীগে” ষড়যন্ত্রকারীরা ঢুকে যেন আমাদের মহান স্বাধীনতার সুফল নস্যাৎ করতে না পারে। আসুন আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আস্থা রেখে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ি। প্রধানমন্ত্রীর দূর্নীতি বিরোধী অভিযানে সহায়তা করে দেশকে কলঙ্ক মুক্ত করে স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

ক্যাপ্টেন (অবঃ) মোঃ রফিকুল ইসলাম, সেনা শিক্ষা কোর, অধ্যক্ষ, শেরপুর কলেজিয়েট স্কুল।