শেরপুর পৌরসভার বিনোদনের স্থানগুলো

0
363

লেখক: নাজমুন নাহার নূপুর

ইট পাথরের যান্ত্রিক শহরে, মাঝে মাঝে মন বেকুল হয়ে উঠে একটু ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়ের জন্য। প্রশান্তির ছোঁয়া পেতেই আর শহুরে জীবনের একঘেয়েমি কাটাতেই শেরপুর পৌরসভার ভিতরেই রয়েছে মন জুড়ানো- নয়ানাভিরাম বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। ছুটির দিনে বা অবসর সময়ে একা বা পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্য পৌরসভার ভিতর পছন্দের স্থান গুলো যেমন – ডিসি উদ্যান ও লেক, শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক, অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র, মমিনবাগ জমিদার বাড়ি

ডিসি উদ্যান ও লেকঃ শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র এবং গরমে প্রশান্তির জায়গা, শেরপুর জেলা প্রশাসকের মালিকানাধীন এবং তত্ত্বাবধানে থাকায় এ জায়গাটি “ডিসি উদ্যান ও লেক” হিসেবে পরিচিত। নয়আনী জমিদার বাড়িতে ডিসি অফিস ও জেলা জজের কার্যালয়ের সম্মুখে অবস্থিত ডিসি উদ্যান ও লেক। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা আদালত এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজে আশা অপেক্ষমাণ মানুষ এবং শহরের সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের জায়গা ডিসি উদ্যান ও লেক। এখানে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছপালা, বসার জন্য রয়েছে অসংখ্য সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চ, বাশেঁর তৈরি ব্রীজটি ইতিমধ্যে দর্শনার্থীদের মাঝে ”সেলফি ব্রীজ” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, লেকের পানিতে ভেসে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি প্যাডেল বোট। প্রতিটি বোটে ৪ জান করে একসাথে বসতে পারে। একজন দর্শনার্থী ১৫ মিনিটের জন্য ২০ টাকা ফি দিয়ে ভেসে বেড়াতে পারে তবে একসাথে ৪ জন উঠলে ৮০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা দিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য পানিতে ভেসে বেড়াতে পারবে। প্যাডেল বোট ব্যবহার করা যায় সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। সকলের দৃষ্টি কাড়ে কৃত্রিম ঝরনাটি, শীতের রাতে শরীর গরম করার জন্য রয়েছে ব্যাডমিন্টন খেলার কোট, সকল-সন্ধ্যায় ডায়াবেটিকস রোগীদের হাটার জন্য রয়েছে লেকে দক্ষিণ, পূর্ব এবং ভিতরে হাটার পাকা রাস্তা। এছাড়াও রয়েছে শিশুদের খেলার জন্য দোলনা ও অন্যান্য বিনোদন সামগ্রী। রাতের আধারে ডিসি লেক যেন হাসে রঙ্গিন হাসিতে।

ডিসি লেক সেতু

শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কঃ জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন অবস্থিত। শেরপুর জি.কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালযয়ের দশম শ্রেণির শহীদ ছাত্র দারোগ আলীর নামানুসারে “শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক” নামাকরণ করা হয়। পার্কে শিশুদের জন্য রয়েছে হাতির ভাস্কর্য, দোলনা ও অন্যান্য বিনোদন সামগ্রী। এছাড়াও রয়েছে একটি ক্যান্টিন । পার্কে আসা শিশু-কিশোর এবং অভিভাবকরা বিনোদনের পাশাপাশি যেন বিনা মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে সেজন্য শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়ার পক্ষ থেকে থেকে রয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের সুবিধা । পার্কে প্রবেশ মূল্য প্রতিজন ২০ টাকা।

শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক

অর্কিড পর্যটন কেন্দ্রঃ পৌরসভার ভিতরে কান্দাপাড়া এলাকায় শেরপুর থেকে ঝিনাইগাতি যাওয়ার রাস্তার পাশে ব্যাক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। শহর জীবনের একঘেয়েমিকে দূর করে মন কে প্রফুল্ল করতে পাকৃতিক এবং কৃত্রিম পরিবেশ সমৃদ্ধ অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র। মনে হয় পুরো অর্কিড কেন্দ্রটি শিল্পীর আকাঁ তুলির ছোঁয়ায় কোন শিল্পকর্ম। সারি সারি গাছগাছালি দাঁড়িয়ে আছে যেন পাহারা দেওয়ার জন্য।অর্কিডের গেটে প্রবেশ করলেই মন হারিয়ে যায় অজানা পথে। এছাড়াও এর সম্মুখে রয়েছে একটি জলাশয় এখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করে সাদা সাদা বক আর মাছরাঙ্গা। একটু সামনে এগুলেই খাঁচার ভিতর থেকে খেলা করবে বানর, খরগোশ সহ বেশ কিছু প্রাণী। আরও সামনে দেখা যায় ছোট ছোট কর্টেজ, ছনের ঘর এবং সান বাঁধানো বিশাল জমিদারি পুকুরসহ নানা কিছু যা দর্শনার্থীদের মনকে ভরে সময় ।

অর্কিড শেরপুর

প্রিয়জনের সাথে গল্প করার জন্য রয়েছে বেশ কিছু বড় বড় ছাতা এবং ছাতার নিচে বসার জন্য রয়েছে চেয়ারের সু-ব্যবস্থা। মেশিনে কাটিং করা বড় বড় সবুজ ঘাস গুলো নজর কাড়ে সকলের। অর্কিডের সৌন্দর্য হেটেঁ দেখার জন্য রয়েছে সরু রাস্তা। শিশুদরে জন্য রয়েছে অসংখ্য বিনোদন সামগ্রী। অর্কিডে প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা তবে প্রতিবান্ধী, সরকারি কর্মজীবী এবং ফ্যামিলি টুরে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের সুবিধা রয়েছে টিকেট মূল্যের উপর।

মমিনবাগ জমিদার বাড়িঃ মমিনবাগ বাড়িটিতে ভুঁইয়াগণ বসবাস করতেন, স্বাধীনতার পর তাঁরা বাংলাদেশ ছেড়ে পাশের দেশ ভারতে চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় হিন্দু প্রজাকে বাড়িটি স্বেচ্ছায় দিয়ে দেন। ১৯৭৭ সালে হিন্দু প্রজা পুরো বাড়িটি উসমান গণীর কাছে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে বাড়িটি পূণনির্মান হলেও ঐতিহ্যের ছাপ রয়ে গেছে পুরোদমে। ব্যস্ত নগরীতে নিরিবিলি খোলা স্থান হিসেবে বাড়িটি সকলের প্রথম পছন্দ। বাড়িটির সম্মুখ ভাগে রয়েছে নানা প্রজাতির গোলাপের সমারোহ। বাড়ির প্রবেশদ্বারে রয়েছে শান্ত, মিঠাপানি ও পাকা ঘাট বিশিষ্ট একটি প্রাচীন দিঘী।

মমিনবাগ বাড়ি

‘সুস্থ শরীর, সুন্দর মন’ আমাদের সকলের কাম্য। আর আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে এই বিনোদন কেন্দ্রগুলো আমাদের দিতে পারে সুন্দর-সামাজিক পরিবেশ যা দেহ ও মন দুটোকেই সুস্থ রাখতে সহায়ক হবে। এছাড়াও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় ও একত্মতা বজায় রাখতে সকলে মিলে ঘুরেফিরে সময় কাটানোর উত্তম জায়গা হলো এই বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঘুরতে আসুন, দেখুন আর সকলে মিলে উপভোগ করুন।