এক নজরে শেরপুর জেলা

27
1766

শেরপুর জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। ১৮২৯-২০১৫ পর্যন্ত এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল। শেরপুর জেলা পূর্বে জামালপুর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এটিকে জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়। শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৬৩.৭৬ বর্গকিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা থেকে ২০৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

ভৌগোলিক সীমানা
উত্তরে ভারতের মেঘালয় , দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা ও পূর্ব দিকে ময়মনসিংহ জেলা।

নদী ও নদ
– পুরাতন ব্রহ্মপুত্র : জেলার একমাত্র নদ।
– কংস নদী
ভোগাই নদী
– কর্ণঝরা নদী
চেল্লাখালি নদী
– ঝিনাই নদী
– দুধদা নদী
– মহারশি নদী
– মালিঝি নদী
– সোমেশ্বরী নদী
– মিরগী নদী
– দশানি নদী
– খলং এবং কালাগাঙ এখন মৃত নদী।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
এ জেলা বর্তমানে তিনটি নির্বাচনী এলাকার শেরপুর-১
শেরপুর-২ ও
শেরপুর-৩ অধীনে।
– উপজেলাঃ ৫ টি।
১. শেরপুর সদর উপজেলা
২. নকলা উপজেলা
৩. নালিতাবাড়ি উপজেলা
৪. ঝিনাইগাতী উপজেলা
৫. শ্রীবরদী উপজেলা
– ইউনিয়নঃ ৫২ টি।
– মৌজাঃ ৪৫৮ টি।
– গ্রামঃ ৬৭৮ টি।
– পৌরসভাঃ ৪ টি।
১. শেরপুর পৌরসভা
২. নকলা
৩. নালিতাবাড়ি এবং
৪. শ্রীবরদী।

দর্শনীয় স্থানসমুহ

অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র
মাইসাহেবা মসজিদ
– শহিদ দারগআলী পৌরপার্ক
মমিনবাগ জমিদার বাড়ী
জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
– নয়আনী জমিদার বাড়ি
– নয়আনী জমিদার বাড়ির রংমহল
– পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি
– আড়াই আনী জমিদার বাড়ি
– গজনী অবকাশ কেন্দ্র
– গড়জরিপা বার দুয়ারী মসজিদ
– গোপী নাথ ও অন্ন পূর্ন্না মন্দির
– ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ
– নয়াআনী বাজার নাট মন্দির
– নয়াবাড়ির টিলা
– বারোমারি গীর্জা ও মরিয়ম নগর গীর্জা
মধুটিলা ইকোপার্ক
– রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা
– লোকনাথ মন্দির ও রঘুনাথ জিওর মন্দির
সুতানালী দীঘি
– অলৌকিক গাজির দরগাহ
গড়জরিপা কালিদহ গাং এর ডিঙি
জরিপ শাহ এর মাজার
– নালিতাবাড়ির বিখ্যাত রাবারড্যাম
পানি হাটা দিঘী
– মঠ লস্কর বারী মসজিদ
– মুন্সি দাদার মাজার
– শাহ কামাল এর মাজার
– শের আলী গাজীর মাজার
– বেরশীমুল গাছ
ডিসি উদ্যান ও ডিসি লেক

মুক্তিযুদ্ধ
শেরপুর ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো। শেরপুর স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর। এদিন অধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারে শহরের দারোগা আলী পার্কে অবতরণ করেন এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। একই দিনে স্বাধীন হয় নালিতাবাড়ি। ৯ ডিসেম্বর নকলা, ৬ ডিসেম্বর শ্রীবরদী এবং ৪ ডিসেম্বর ঝিনাইগাতী শত্রু মুক্ত হয়।

জনবসতি
সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে জেলার জনসংখ্যা ১৫,৪২.৬১০ জন। অধিকাংশই বাঙালী মুসলিম। এছাড়া বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলী এবং কিছু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং আদিবাসী রয়েছেন।
বর্তমান শেরপুর জেলার উত্তর সীমান্তের
গারো পাহাড় ও তার প্বার্শবর্তী সমতল এলাকায় কোচ, গারো, হাজং, ডালু, বানাই এবং রাজবংশী ইত্যাদি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ শতশত বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন নিজস্ব ভাষায় কথা বলে।

সংবাদমাধ্যম এবং ব্লগ
– দৈনিক তথ্যধারা
– সাপ্তাহিক শেরপুর
সাপ্তাহিক কালেরডাক
– সাপ্তাহিক দশকাহনিয়া
– সাপ্তাহিক চলতি খবর
– সাহিত্যলোক
– বারসাটি
– বিদ্যাউন্নতি সাধীনী (১৮৬৫) বিলুপ্ত
– সাপ্তাহিক বিজ্ঞাপণি (১৮৬৫) বিলুপ্ত
– সাপ্তাহিক চারিবার্তা (১৮৮১) বিলুপ্ত
– বঙ্গাসুরিধ (১৮৮১) বিলুপ্ত
– সংস্কৃতি সঞ্জবিণী, বিলুপ্ত
– পাক্ষিক কিশোর (১৯৫৭-৫৮) বিলুপ্ত
– মাসিক দক্ষিণা (১৯৬৭) বিলুপ্ত
– মুক্তাঙ্গন, বিলুপ্ত
– গঙ্গাবার্তা, বিলুপ্ত
– অন্নেষা, বিলুপ্ত
– উচ্চারণ, বিলুপ্ত
– সঞ্চারণ, বিলুপ্ত
শেরপুর টাইমস ডটকম
শেরপুর নিউজ ২৪ ডটকম
শ্যামলবাংলা ২৪ ডটকম
শেরপুরের আলো ডটকম
দেশবার্তা ২৪ ডটকম
শেরপুর প্রতিদিন ডটকম
আওয়ার শেরপুর ডটকম

প্রধান ফসল এবং ফল
ধান, পাট, গম, সরিষা, আলু, বাদাম এবং শাকসবজি এই জেলার প্রধান ফসল।
আম, কাঁঠাল এবং জাম ইত্যাদি এই জেলার প্রধান ফল।

অর্থনীতি
শেরপুরের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। দেশের অন্যান্য অংশের মতো এই জেলায়ও বিভিন্ন জাতের মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়াও ফসল, গৃহপালিত পশু ও মৎস্য পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। অন্যান্য ভাবেও জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ধানের চাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ সহ অনেক ছোট ছোট শিল্পের যোগান ও পরিবহন খাতের গ্রাহক হয়ে সাহায্য করছে এইসব চাতাল। এ জেলার চাল প্রায় সব জেলাতেই বাজারজাত করা হয়।
এ জেলায় রয়েছে দুটি শিল্প কারখানাঃ
১. স্পন্দন রাইস ব্রান অয়েল।
২. জে এন্ড এস ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড ।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
– শের আলী গাজী
রবি নিয়োগী
– শহীদ শাহ মুতাসিম বিল্লাহ খুররম (মরণোত্তর বীর বিক্রম)
– আফসার আলী
– আবদুল্লাহ-আল-মাহমুদ
– খন্দকার আবদুল হামিদ
– শ্রী হরচন্দ্র চৌধুরী
শহীদ নাজমুল আহসান
– করম শাহ
– টিপু শাহ
ড. সৌমিত্র শেখর
– গোপালদাস চৌধুরী
– চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্ক
– পণ্ডিত ফসিহুর রহমান
– চারুচন্দ্র মজুমদার
– বীর প্রতীক জহুরুল হক মুন্সি
– আব্দুল হাকিম এম এন এ
– আব্দুল হালিম এম পি
– অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান
– শহীদ মোস্তফা তালুকদার
– নিগার সুলতানা (নতুন প্রজন্ম/ক্রিকেটার)


তথ্য সূত্র-
সরকারি ওয়েবসাইট
উইকিপিডিয়া
বাংলাপিডিয়া