শেরপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ছানার পায়েস

0
328

আল আমিন রাজু : মিষ্টি দেখলে আমাদের কার না খেতে লোভ জাগে? আর তা যদি হয় শেরপুরের বিখ্যাত ‘ছানার পায়েস’ তাহলে তো কথাই নেই। বাংলাদশের বিভিন্ন জেলার প্রসদ্ধি মিষ্টির মধ্যে শেরপুর জেলার ঐতহ্যিবাহী ছানার পায়েস হচ্ছে অন্যতম। এ জেলায় ঘুরতে এসেছিলেন অথচ ছানার পায়েসের স্বাদ নেননি, তাহলে তো বিশাল মিস করেছেন। এ জেলার ছানার পায়েসে রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য। আজ থেকে শত বছর আগে তৎকালনি ব্রিটিশ আমলে এই মিষ্টির প্রথম তৈরি হয় শেরপুর শহরের মুন্সবিাজার ঘোষপট্রিতে। তখন হাতে গোনা দু-একটি দোকানে এ মিষ্টি তৈরি করা হলেও বর্তমানে জেলা সদরেই অন্তত ২০-২৫ টি দোকানে এই মিষ্টি তৈরি করা হয়। প্রতদিনি গড়ে বিক্রি হয় প্রায় দুইশ থেকে দুইশ পঞ্চাশ কেজি ছানার পায়েস। শেরপুরের তৎকালিন জমিদারগণ বিশেষ পদ্ধতিতে এই মিষ্টি ইন্ডিয়ার কলকাতায় নিয়ে যেতেন উপহার হিসেবে।

ছানার পায়েস তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে শেরপুর নিউ মার্কেট এলাকার অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুব্রত দে (বাপ্পী) জানান, প্রথমে উচ্চ তাপমাত্রায় দুধ জ্বাল দিয়ে ক্ষীর করা হয়। এরপর আলাদাভাবে দুধ থেকে ছানা কেটে তাতে সামান্য ময়দা মিশিয়ে ছোট ছোট গুটি করা হয়। এই গুটি গুলো চিনি মিশ্রিত শিরায় ভিজিয়ে, পূর্বে তৈরি করা ক্ষীরে ছেড়ে হাল্কা তাপমাত্রায় জ্বাল দেওয়া হয়। আর এভাবইে তৈরি হয় সুস্বাদু ছানার পায়েস। র্বতমানে শেরপুর শহররে অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডার, র্দুগাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডার, গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডার, প্রেমানন্দ গ্রান্ড সন্স মিষ্টান্ন ভান্ডার, নন্দ গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডার, চারু সুইটস, শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভান্ডার, বল্লভ মিষ্টান্ন ভান্ডার, মা ভবতাঁরা মিষ্টান্ন ভান্ডার গুলোতে ছানার পায়েস কিনতে পাওয়া যায়।

আল আমিন রাজু

শেরপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ পায়েসের ব্যাপক জনপ্রয়িতা রয়েছে। শেরপুর জেলার বিভিন্ন লোকদের সঙ্গে কথা বলে যানা যায় বিবাহ, জন্মদিন কিংবা বিভিন্ন র্ধমীয় উৎসবসহ যে কোন অনুষ্ঠানে এ মিষ্টি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। শহররে নিউ মার্কেট এলাকার অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুব্রত দে (বাপ্পী) বলেন, শীতকালে দেশেরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে যেমনঃ গজনী অবকাশমধুটিলা ইকোপার্ক, পানিহাটা-তারানি পাহাড়, নয়াবাড়ির টিলা, রাজার পাহাড়ে বেড়াতে আসে, তখন তাঁরা স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলো থেকে ছানার পায়েস খেয়ে মুগ্ধ হয়ে সানন্দে কিনে নিয়ে যান পরিবারের লোকদের জন্যে।