খবর | হাসপাতাল ক্লিনিক

শেরপুরে করোনা আক্রান্ত ডাক্তার আলমগীর মোস্তাকের উপলব্দি !

রফিক মজিদ : গত এক সপ্তাহ আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেনে শেরপুরের অত্যন্ত জনপ্রিয় ডাক্তার আলমগীর মোস্তাক। তিনি এই জেলার মিডিসিন ও রিমিউটোলজি বিশিষজ্ঞ চিকিৎসক। জটিল রোগীদের ব্যাপারেও হাল ছাড়ার পাত্র তিনি নন। রোগীকে কাছে নিয়ে রোগটাকে পাত্তা কখনও দেন না। অতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উঁচু তলার মানুষ সবার গুরুত্বই তার কছে সমান। জীবন যাপন করেন সাদাসিদে। ডাক্তার আলমগীর মোস্তাক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সদর হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে দাপিয়ে রোগী দেেেখছেন। ইচ্ছা করেই নমুনা দিয়েছেন করোনা পরীক্ষার জন্য। করোনা পজিটিভ হলে সাথে সাথে নিজ ফেইজ বুকে ষ্টেটাস দিয়ে লিখেন, ‘কোন দয়া নয় সবার কাছে দোয় চাই।’ ২ এপ্রিল শনিবার বিকালে আইসোলেশনে থেকে নিজ হাতে লিখে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ক’জন সাংবাদিকের কাছে। সে চিঠির হুবহ তুলে ধরা ধরা হলো।
করোনা শুধই একটি ভাইরাস। একটি ভাইরাসের কারনে সারা বিশ্ব এক সাথে স্তদ্ধ হয়ে গেছে। সম্ভবত পৃথিবীতে এটিই প্রথম ঘটনা। এটিকে মোবাবেলা করার জন্য নিরন্তর চেষ্ঠা চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটিও সফল প্রতিশেধক আবিস্কার হয়নি। স্বাস্থ্য কর্মীরাই যেহেতু এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা তাই তাদেরই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনাই বেশী। এই ধারাবাহিকতায় আমি নিজেও আক্রান্ত হয়ে পড়ি সপ্তাহ খানেক আগে। যদিও আমার মারাত্বক কোন লক্ষন ছিল না তারপর গত কয়েকটা দিন চিরিয়াখানার প্রাণীর মত বন্দি জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমি ডাক্তার- মানুষকে সাহস ও চিকিৎসা দিই। নিজের করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা শুনে প্রথমে সামান্য বিচলিত হয়েছিলাম। মুহুর্তেই নিজেকে বাস্তবতায় নিয়ে আসি। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগে ও পরে একেবারেই ভয় নয় সচেতন হতে হবে। মানুষ তার নিজেকেই সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে এটাই হয়ত সত্যি। এই সত্যিটাই আমার ভাবনায় কতটা ধাক্কা খেয়েছে তা অসুস্থ (করোনা) না হলে হয়তো কোন দিনও বুঝতে পারতাম না। আমার আশেপাশের মানুষ আমাকে যে কতটা ভালবাসে তা এই প্রথম অনুভব করলাম। ধন্যবাদ দিয়ে নয় আগামি দিনে আরও ভালোবাসা দিয়ে জবাব দিতে চাই।
একটি ভাইরাস বোঝিয়ে দিল আসলে আমরা কত ক্ষুদ্র, কতটা অসহায় প্রকৃতির কাছে। অথচ আমরা কত অহংকারি। আমরা মানুষ নিজেদের উপর প্রকৃতির উপর কত অবিচার করেছি। হয়তো তার শোধ নিচ্ছে প্রকৃতি, চালাচ্ছে শুদ্ধি অভিযান। আমরা পরিকল্পনাকারী কিন্ত সৃষ্ঠিকর্তাই যে সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী এইটি আবারও প্রমাণ করিয়ে দিলেন তিনি ? এটা কত দিন স্মরন রাখবো এটাই এখন বড় প্রশ্ন। মানুষ সাম্যতা ভাঙ্গে আর প্রকৃতি মহাসাম্যতা রক্ষা করে। করোনা অন্তত মানুষকে এটুকু দেখাতে পেরেছে। এখন মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ ক্ষমতাবান থেকে শুরু করে ঝোঁপড়ির ভিখারি সবাই করানার ভয়ে এক কাতারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে করোনা থেকে দ্রুত সেরে উঠছি। সেরে উঠেই আবার মানুষের মাঝে ফিরে যাবো- দোয়া করবেন সবাই।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *