রফিক মজিদ – Rafiq Mazid

1
349

জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি ও সকল শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ও ট্রেড লাইসেন্সে পুরো নাম ‘মোঃ আব্দুর রফিক’। তবে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে শুরু থেকেই ‘রফিক মজিদ’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭০ সালের ২ এপ্রিল শেরপুর শহরের মুন্সি বাজার শহীদ বুলবুল সড়কের নিজ পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বর্তমান আবাস শহরের নয় আনি বাজার (কালির বাজার) মহল্লায়। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং ৩ পুত্র সন্তানের জনক। স্ত্রী উম্মে কুলছুম রত্না গৃহিণী। সন্তানরা হলো শফিকুল ইসলাম জিহাদ, রেজুয়ান ইসলাম রিসাদ ও রাফিদ ইসলাম রাফসান।

সাংবাদিক ও কবি রফিক মজিদের স্কুল জীবন কেটেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী জিকে পাইলট হাই স্কুলে। এখান থেকে ১৯৮৭ সালে এসএসসি পাশ করে ১৯৮৯ সালে শেরপুর সরকারী কলেজে ভর্তি হলেও নকলা হাজি জাল মাহমুদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তৎকালে ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে শেরপুর সরকারি কলেজ (বর্তমান শেরপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) থেকে বিএ (পাশ) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মূলত একজন বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

সাংবাদিক ও কবি রফিক মজিদ

সাংবাদিক ও কবি রফিক মজিদ ব্যবসার ফাঁকে সাংবাদিকতা এবং সাহিত্যাঙ্গণের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত রয়েছেন। তার সাংবাদিকতার বয়স প্রায় ৩০ বছর হতে চললেও লেখালেখি শুরু আরো অনেক আগে থেকেই। স্কুল জীবনের ৫ম শ্রেণী থেকেই তার ছড়া ও কবিতা লেখালেখির হাতেখড়ি। জিকে পাইলট হাই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৮২ সালে তৎকালিন বহুল প্রচলিত পত্র মিতালীর মাধ্যমে জাতীয় মাসিক শিশু ম্যাগাজিন ‘ফুলকলি’ তে ‘খুকুমনি’ শিরোনামে তার একটি ছড়া প্রকাশিত হয়। এরপর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় লেখালেখিতে ঝোঁক আরো বেড়ে যায়। কলেজের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, দেয়ালিকা, স্মরণিকা, কলেজ সংসদের বার্ষিকী ছাড়াও তৎকালে স্থানীয় বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক সংগঠন থেকে প্রকাশিত এবং নিজের সম্পাদিত বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশনাসহ অন্যান্য স্মরণিকা-ম্যাগাজিনে তার লেখা ছড়া-কবিতা প্রকাশিত হয়। এছাড়া বিএ ক্লাসে অধ্যয়নরত অবস্থায় তৎকালে নব্বই সালে স্বৈরাচার বিরোধী তুমুল আন্দোলনের সময় কলেজের নবীন কবিদের নিয়ে নিজের সম্পাদিত প্রথম ভাঁজপত্র ‘কবিতা কাগজ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সালে একই কলেজে অধ্যয়ন পর্যন্ত ওই ভাঁজপত্র প্রতি মাসে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। এদিকে এই লেখালেখি’র ফাঁকে তৎকালে ১৯৯০ সালে বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘আগামী’ তে প্রথম মতামত বিভাগে কলেজ ও শহরের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে মতামত ছাপা হলে নেশায় চেপে বসে সাংবাদিকতা। আগামীতে নিয়মিত মতামত বিভাগে লেখা ছাপা হওয়ার পাশাপাশি ১৯৯১ সালে ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আল-মিনার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের মধ্যদিয়ে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন তিনি। এরপর আর থেমে থাকেননি তিনি। বিএ পাশ করার পরপরই পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে বৈবাহিক জীবন শুরু এবং পৈত্রিক ব্যবসা দেখাশোনার দায়িত্ব আসলেও সাংবাদিকতার ঝোঁক থেমে থাকেনি। ব্যবসার পাশপাশি চলে সাংবাদিকতা।

ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক সাপ্তাহিক আল-মিনারের পর বগুড়া থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জীবন এবং এরপর শুরু হয় জাতীয় সাপ্তাহিক সুগন্ধা, সাপ্তাহিক খবরের অন্তরালে, সাপ্তাহিক প্রাইভেট ডিটেকটিভ এ কাজ করার পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক প্রাইম এরপর ক্রমান্বয়ে দৈনিক দেশজনতা, দৈনিক আল মুজাদ্দেদ, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক আজকের পত্রিকায় কাজ করার পর সর্বশেষ ২০০৬ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ‘দৈনিক যায়যায়দিন’ ও ‘দৈনিক শেয়ার বিজ’ এ জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’ পত্রিকার ব্যুরো চীফ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় সাপ্তাহিক ‘সাম্প্রতিক দেশকাল’ এবং ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া দেশ টেলিভিশনে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দৈনিক মানবজমিনে কর্মরত অবস্থায় ২০০১ সালে রির্পোটিং এ সেরা দশ প্রতিনিধি’র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া সাংবাদিকতায় তিনি সরকারী সংস্থা পিআইবি, বেসরকারী সংস্থা আর্টিকেল-১৯ সহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা থেকে বুনিয়াদি এবং বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক রির্পোটিং এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সনদপত্র লাভ করেন।

সাংবাদিক ও কবি রফিক মজিদ

এই ফাঁকে অনলাইন মিডিয়ার যাত্রা শুরু হলে প্রথমে ‘শীর্ষ নিউজ’ এবং পরবর্তিতে ‘বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম’, ‘লাইভ টুয়েন্টিফোর ডটকম’ এবং বর্তমানে দেশের একমাত্র স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংবাদ বিষয়ক ‘ক্যাম্পাস লাইভ টুয়েন্টিফোর ডটকম’ এ কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া অসংখ্য অনলাইন, প্রিন্ট সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। একই সাথে তিনি শেরপুর থেকে প্রকাশিক সাপ্তাহিক শেরপুর ও সাপ্তাহিক চলতি খবর পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার, নির্বাহী সম্পাদক ও বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজের সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘শেরপুর সংবাদ’ ৩ সংখ্যা প্রকাশিত হলেও নানা জটিলতার কারণে সে পত্রিকার নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। এরপর সংবাদ মাধ্যম অনলাইন যুগে পৌঁছানোর পর নিজের প্রকাশনা ও সম্পাদনায় ‘আলোকিত শেরপুর ডটকম’ এবং উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে শেরপুরের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘শেরপুর টাইমস ডটকম’-এ এখনও দায়িত্বে আছেন তিনি।

কলেজ জীবন পরিসমাপ্তি এবং সংসার জীবনে প্রবেশ করার পর সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যাঙ্গনের বিচরণ কিছুটা কমে যায় তার। ফলে কলেজ জীবনের ভাঁজপত্রটি নিয়মিত প্রকাশনা না করতে পারলেও বিভিন্ন জাতীয় দিবস এবং বৈশাখি মেলায় প্রকাশনা করে আসছেন প্রায় ৩০ বছর ধরে। এর মাঝে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকা, বিশেষ দিনের স্মরণিকা ও ম্যাগাজিনে তার ছড়া-কবিতা এবং ছোট গল্প প্রকাশিত হয়েছে।

নব্বই দশকের শেষের দিকে প্রথম জাতীয় কবি সংগঠন ‘অনুপ্রাস’ এর জেলা কমিটি’র যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি সম্প্রতি গঠিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন ‘গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ’ এর শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

সাহিত্য সংগঠনে তার খুব একটা বিচরণ না থাকলেও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনে অসংখ্যবার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সাংবাদিকতার শুরুতেই তিনি শেরপুর প্রেসক্লাবের সদস্য হন এবং এর পাশপাশি ২০০১ সালে এক ঝাক তরুণ সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত ‘শেরপুর সাংবাদিক পরিষদ’ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর শেরপুর প্রেসক্লাবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছিলেন। এরই মাধ্যে সাংবাদিকতা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় যুগে প্রবেশ করলে ‘টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং জেলার প্রথম ও সাংবাদিকদের একমাত্র কল্যাণ সমিতি ‘শেরপুর সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাংবাদিক ও কবি রফিক মজিদ

ব্যবসায়ী পরিচিতিতে শেরপুর চেম্বার অব কামার্সের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন থেকে ‘বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি’ শেরপুর জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নানা সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে আর্থিক ও নানা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি।

লেখক : আরিফ হাসান, কবি ও সাংবাদিক।