মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর

4
1030
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95
মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর

ছবি: উইকিপিডিয়া

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠা পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে, গারো পাহাড়ের পাদদেশে উচু-নিচু টিলা বেষ্টিত মধুটিলা ইকোপার্ক অন্যতম। ময়মনসিংহ বিভাগের, শেরপুর জেলার, নালিতাবাড়ি উপজেলার, পোড়াগাঁও ইউনিয়নে এই মধুটিলা ইকোপার্কটি অবস্থিত। শেরপুর শহর থেকে সোজা উত্তর দিকে প্রায় ৩৫ কি.মি. দূরে এই মধুটিলাটি সবুজ গাছপালার সমারোহে ভ্রমণ পিপাসু দর্শনার্থীদের জন্য এক অপূর্ব সৌন্দর্য তৈরি করেছে।

১৯৯৯ সালে এই স্থানটিকে পরিবেশ উদ্যান বা ইকোপার্ক ঘোষণা করা হয়। এই পার্কের আয়তন প্রায় ৩৮৩ একর। রাজধানী ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৩৮ কি.মি.। এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম লেক, প্যাডেল বোট, সাইডভিউ টাওয়ার, শিশুপার্ক, রেস্টহাউস, বিভিন্ন স্থাপনা, ঔষুধি ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রজাতির গাছপালা, মৌসুমী ফুলের রঙবেরঙের গোলাপের বাগান। মধুটিলা ইকোপার্কের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি পাঁচ টাকা। দু’জন যাত্রী সহ মটর সাইকেল ২০ টাকা, বড় বাস ৫০০ টাকা, মিনিবাস ২০০ টাকা ও লোকাল বাস ৪৫০ টাকা করে। কৃত্রিম লেকে প্যাডেল বোটে ৫ থেকে ৬ জন বসা যায়, যার ৩০ মিনিট চালাতে ভাড়া পড়বে ৫০ টাকা। প্রায় ৫৫ ফুট উচু টাওয়ারে উঠার টিকেটের মূল্য পাঁচ টাকা করে। এছাড়া, টাওয়ারে উঠে দুরবিন দিয়ে ভারতের ক্যাম্পসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাঁচ টাকা করে পড়বে।

মধুটিলা ইকোপার্কটি সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সপ্তাহে সাত দিন খোলা থাকে। পার্কের গেইট পেরুতেই চোখে পড়বে উচু গাছের সারি আর রাস্তার দুপাশেই রয়েছে রকমারি পণ্যের দোকান। ক্রেতাদের চাহিদামত প্রায় সব পণ্যই এখানে বিক্রি করা হয়। সামনে আগাতেই পাহাড়ি ঢালুর আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরিয়েই চোখে পড়বে বিশাল আকৃতির পাথরের তৈরি শুড় উচু করে রাখা দুটি হাতি। এছাড়াও স্থানটির বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তার পাশে দেখা মিলবে হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, হ্রদের ধারে কুমির, ব্যাঙ আর মৎস্যকন্যার চমৎকা ছবি, ভাস্কর্য, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ইত্যাদি। এখানে রয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের বসবাস। যেমনঃ গারো, হাজং, কোচ, হদি বর্মণ। এখানে খাওয়া-দাওয়া করার জন্যও রয়েছে সুব্যবস্থা। বিভিন্ন টাটকা আর সুস্বাদু খাবারের সরবরাহ। শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য শিশুপার্কটি সাজানো হয়েছে যথাযথ উপকরণ দিয়ে। ক্লান্ত ভ্রমণ প্রিয়সীদের দিনের বেলা ব্যবহার করার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে মহুয়া রেস্টহাউস। এছাড়াও এখানে রয়েছে ডিসপ্লে মডেল, তথ্যকেন্দ্র, গাড়ি পার্কিং জোন, ক্যানটিন ইত্যাদি।

শেরপুর শহর থেকে উত্তর দিকে খোয়াপাড়-তিনানী-নন্নীবাজার হয়ে পাকা সড়ক পথে মধুটিলা যেতে হয়। আর নালিতাবাড়ি উপজেলা থেকে বাগবেড়-চৌরাস্তা-নন্নীবাজার হয়ে পাকা রাস্তা দিয়ে মধুটিলা আসা যাওয়া করা যায়। এসব রাস্তায় প্রতিনিয়তই সিএনজি এবং অটোরিক্সা যাতায়াত করে।
উল্লেখ্য যে, মধুটিলা ইকোপার্কের কাছাকাছি রাতে থাকার জন্য তেমন সুব্যবস্থা নেই। তার জন্য আপনাকে জেলা শহর শেরপুর সদরকেই বেছে নিতে হবে।

তথ্য সংগ্রহঃ সাগর আহমেদ