বারদুয়ারী মসজিদ

2
608

বারদুয়ারী মসজিদটি শেরপুরের ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন। ধারণা করা হয় ভারতীয় উপমহাদেশ যখন ইংরেজদের শাসনের অধীনে ছিলো, তার আগে বারদুয়ারী মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইংরেজদের শাসনামলে এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মসজিদটি মাটির নিচে চাপা পরে যায় এবং স্থানটি জঙ্গলে রূপান্তরিত হয়। মানুষ ভয়ে জঙ্গলের দিকে আসতে সাহস পেতো না।

জামালপুরের মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব ষাটের দশকে শেরপুর জেলার শ্রীবরদীতে ভূমি জরিপ কার্যালয়ে পিএলএ পদে চাকরি করতেন। এজন্য তিনি পিএলও মাওলানা নামে পরিচিত ছিলেন জনসাধারণের মাঝে। তিনি খাবে দেখতে পান বারদুয়ারী মসজিদটি মাটির নিচে চাপা পরে আছে। তিনি আসলেন কয়েকদিন অবস্থান করে এলাকার প্রবীণ লোকদের নিয়ে জঙ্গলে আসেন কিন্তু জঙ্গল বড় হওয়ায় স্থানটি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পরে, একটি উপায় বের করলেন অর্থাৎ চোখ বন্ধ করে একটি পাথর নিক্ষেপ করলেন এবং আগেই উপস্থিত জনতাকে বললেন পাথরটি কোথায় পরে তাতে নজর রাখতে। পাথরটি পরে মসজিদের উত্তর দেওয়ালের পাশে তখন মাটি খুঁড়তে থাকেন, ১০ ফুট খননের পর উত্তর ওয়ালের সন্ধান মিলে তারপর ধাপে ধাপে পুরো মসজিদটি বের করেন, মসজিদটি মাটির নিচে চাপা থাকায় বিভিন্ন সাইড বিনষ্ট হয়ে যায় পরে স্বপ্নে দেখা নকশা অনুযায়ী নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় (১৯৬৩) খাবে দেখা মসজিদের নকশায় ছিলো ১২ টি দরজা, তিনটি গম্বুজ পরে স্থানীয় লোকজন মসজিদের চারপাশে থাকা তাদের জমি গুলো স্বেচ্ছায় দান করে দেন মসজিদের নামে এবং মসজিদটি সংস্করণ করেন। মসজিদ নির্মাণের জন্য দান বাক্স তৈরি করা হয় তারপর থেকে মসজিদের সকল উন্নয়ন মূলক কাজ হয়ে থাকে দান বাক্সের টাকায়। মসজিদ নির্মাণ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব এ দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

তখন মসজিদটি একতলা বিশিষ্ট হলেও বর্তমানে ৩ তালার কাজ চলছে। অপরূপ নকশা ও কারুকার্য খচিত মসজিদটি দেখতে খুবই সুদৃশ্য। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোক এ মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ আদায় করতে। শুক্রবার নামে মানুষের ঢল। একত্রে প্রায় ৩,০০০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করেতে পারে এ মসজিদে। তাদের যানবাহন নিরাপত্তার জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে।

মসজিদটির ১২ টি দরজা থাকায় মসজিদটির নাম দেওয়া হয় “বারদুয়ারী মসজিদ”

শ্রীবর্দী উপজেলার গরজরিপার ইউনিয়নের “বারদুয়ারী মসজিদটি অবস্থিত। আর প্রাচীন কালে গরজরিপা ছিলো শেরপুরের রাজধানী।

মসজিদটির খেদমতের জন্য রয়েছেন একজন খতিব, একজন স্থানীয় ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন এবং একজন খাদেম।

শ্রীবরদী থেকে কুরুয়া হয়ে দিকে ১২ কিলোমিটার দূরে বারদুয়ারী মসজিদ অবস্থিত, ভাড়া ৪০ টাকা অটো রিক্সা বা সিএনজি যোগে। আর শেরপুর খোয়ারপাড় থেকে কালিবাড়ী হয়ে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাড়া ৩০ টাকা অটো রিক্সা বা সিএনজি যোগে। তাছাড়াও নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়, পুরো রাস্তা পিস ঢালাই করা।