ডিসি উদ্যান ও ডিসি লেক।

6
549

শেরপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলা আদালত পূর্ব পাশে, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এ উদ্যান ও সেতু। ডিসি অফিসকে কেন্দ্র করে উদ্যানটি ও লেকটি নির্মিত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এই উদ্যান ও লেক দেখতে আসেন। শহরের প্রাতঃভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি উত্তম স্থান।

লেক এবং উদ্যান

শেরপুর শহরের মধ্যে এটি প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যান ও লেক। এটি হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের মিলনমেলার কেন্দ্র। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে এখানে ভীড় জমায় প্রতিনিয়ত।

দীর্ঘদিন এ স্থানটি ময়লায় আবর্জনা, নোংরা পানি এলাকা হিসেবে পরিত্যাক্ত ছিল, এখানে আসার মতো কোন অবস্থা বা পরিবেশ ছিলো না। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে এই স্থানটি জেলা প্রশাসনের উদ্যাগে সম্পূর্ণ এলাকাটিকে পরিষ্কার করে দর্শণার্থীদের জন্য মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত হওয়ায় তার নামকরণ করা হয় ডিসি উদ্যান ও ডিসি লেক।

ঝর্ণার

 

ডিসি উদ্যানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত্রি ৯ টা পর্যন্ত। সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশ অঢেল এরিয়া, চারপাশে হাঁটার জন্য আছে ৩ ফুট করে কংক্রিটের রাস্তা, বসার জন্য রয়েছে গাছতলায় অসংখ্য টাইলস এবং কংক্রিট বেস্টনী, সাইড গুলোতে রয়েছে সিমেন্টের তৈর করা বসার টেবিল।

গাছতলায় এবং রাস্তার উপর রয়েছে এনার্জি বল্ব। সরকারি বেসরকারি সকল মেলা আয়োজনের জন্য ডিসি উদ্যানটি সকলের প্রথম পছন্দ, শুধু বানিজ্য মেলা ব্যাতীত সকল মেলা ডিসি উদ্যানে হয়ে থাকে।
শিশুদের জন্য রয়েছে সকল প্রকার খেলনা সামগ্রী, একটি বাঁশের সেতু আছে সকলের জন্য উন্মুক্ত, পানিতে ঘুরে ঘুরে আনন্দ পাওয়ার জন্য রয়েছে “প্যাডেল বোট” তবে প্যাডেল বোটে উঠার জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হয় বাকি সব ফ্রি।

প্যাডেল বোট

প্যাডেল বোট

ডিসি লেকের উপর অবস্থিত বাঁশের সেতুটি, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কংক্রিটের পরিবর্তে বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়। এই সেতুটি জায়গাটিকে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য। দর্শনার্থীরা সেতুটিকে ব্যবহার করে সেলফি তুলতে, সেতুটিতে দাড়িয়ে সেলফি না তুলতে পারলে দর্শনার্থীদের যেন অসম্পূর্ণতা রয়ে যায়।

ডিসি লেক সেতু

ধর্মপ্রান মুসলমানের জন্য রয়েছে কালেক্টর অফিসের অর্থায়নে নির্মিত একটি মসজিদ যেন কোন মুমিন বান্দার নামাজ আদায়ে ত্রুটি না হয়। মসজিদটি জেলা তাবলীগ জামাত কমিটি মার্কাজ মসজিদ হিসেবেও ব্যবহার করে থাকে এটি উদ্যানের উত্তর পাশে অবস্থিত এবং বিপরীত পাশে অর্থাৎ উদ্যানের দক্ষিণ পাশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য রয়েছে মন্দির।

ডিসি লেক শেরপুর

 

প্রতিদিন সকাল বেলা ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পযর্ন্ত এখানে চলে বিভিন্ন মানুষের শরীরচর্চা, কেহ দৌড়ে, কেহ নিজ মতে ব্যায়াম করে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা চর্বি কমাতে চায় তারা এখানে ব্যায়াম করে থাকে নিজ নিজ সুবিধা মতো।
উদ্যানে যেন কোন অসামাজিক কার্যকলাপ না হয় তার জন্য পুরো উদ্যানে রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামারা।